, ,

এলপিজি খাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও ডিজিটাল লাইসেন্সিংয়ের দাবি লোয়াবের

জটিল আমলাতান্ত্রিক নীতিমালা এবং বিভিন্ন দপ্তরের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এলপিজি

(লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) খাতের উদ্যোক্তারা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন

বলে অভিযোগ করেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। এই সংকট

উত্তরণে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জোর

দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)

ভবনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিইআরসি

চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ বিশেষজ্ঞ ও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক তাঁর বক্তব্যে খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে

ধরে বলেন, “বর্তমানে প্রায় ৭০০ অটোগ্যাস ষ্টেশন বিষ্ফোরক এবং বিইআরসির

লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় আছে, যা অতি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।” তিনি উল্লেখ করেন

যে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে সরকার ২০১৬ সালে এলপিজি অটোগ্যাস নীতিমালা

প্রণয়ন করলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে

দাঁড়িয়েছে। বিষ্ফোরক পরিদপ্তর থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস

ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মতো অসংখ্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে প্রাথমিক অনুমোদন পেতেই বছরের

পর বছর সময় লেগে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ এসএমই উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের একটি বড় অংশ

বিবিধ খরচের খাতে চলে যাচ্ছে, যা ব্যবসাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

আমিরুল হক আরও বলেন যে, এলপিজি সেক্টরে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার স্টেশনে ১৫০০ কোটি

টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার সিংহভাগই ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে করা। প্রায় ২ লাখ

যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তরিত হলেও লাইসেন্সিং জটিলতার কারণে গ্রাহক ও মালিক উভয়ই

চরম বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও সিএনজির মতো এলপিজি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাওয়ার

কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারা তা ভোগ করতে পারছেন না। অনেক

ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ অপারেটররা সময়মতো এলপিজি সরবরাহ করতে না পারায় ব্যবসা অচল হয়ে

পড়ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে লোয়াবের পক্ষ থেকে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা

হয়েছে। প্রথমত, বাস্তবতার নিরীখে এলপিজি নীতিমালা সংশোধন করে লাইসেন্সিং

প্রক্রিয়াকে হয়রানিমুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, একটি কেন্দ্রীয় রেগুলেটরি অথরিটির অধীনে

‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা যাতে উদ্যোক্তাদের ভিন্ন ভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়।

তৃতীয়ত, উন্নত দেশের আদলে অটোমেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল লাইসেন্সিং সেবা নিশ্চিত করা,

যেখানে সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্স ইস্যু হবে। এবং চতুর্থত,

কোনো নির্দিষ্ট অপারেটর এলপিজি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে স্টেশন মালিকরা যেন অন্য

অপারেটর থেকে সহজে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারেন, সেজন্য চুক্তির শর্ত শিথিল করার আহ্বান

জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংকট কাটানো গেলে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব

জ্বালানি হিসেবে এলপিজি আরও জনপ্রিয় হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন