মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জনবল সংকটে কমলনগর এলজিইডি অফিস, ২১ পদে ৯ জন দিয়ে চলছে কার্যক্রম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) জনবল সংকট

দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও

চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একজন প্রকৌশলী ও ৯ জন

কর্মচারী জোড়াতালি দিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি

পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, তদারকি ও প্রশাসনিক

কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ, ঠিকাদার ও

সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাজ সামাল দিতে হিমশিম

খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

একদিকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, অন্যদিকে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও

বাস্তবায়নসহ সব মিলিয়ে কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক,

সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে

প্রকল্প শেষ করতে নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত

তদারকির অভাবে কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।

জানা যায়, কার্যালয়টিতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র

৯ জন। এরমধ্যে অফিস প্রধান উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদের বদলির আদেশ

হওয়ায় সংকট আরো বেড়ে গেছে। বর্তমানে অর্ধেক জনবল দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে উপজেলার

গুরুত্বপূর্ণ অফিসটি।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুত্রে জানা যায়, একজন প্রকৌশলী, একজন সহকারী

প্রকৌশলী, ৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীর স্থলে রয়েছে মাত্র ১ জন। একজন করে হিসাব রক্ষক,

হিসাব সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও সার্ভেয়ার পদ থাকলেও একজনও নেই। কার্যসহকারী ৫

জনের স্থলে রয়েছে ২ জন। ১ জন করে অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারীর স্থলে কেউ নেই। নেই

নিরাপত্তাকর্মীও। সবমিলিয়ে এ অফিসে ২১ টি পদের স্থলে আছে মাত্র ৯ জন। এর মধ্যে

সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলীকে ফেনীতে বদলি করা হয়েছে। তিনি চলে গেলে অফিসের দৈনন্দিন

কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়বে।

স্থানীয় ৪ জনপ্রতিনিধি জানান, এলজিইডি অফিসে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উন্নয়ন

কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। এতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও

নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

২ জন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ছোটখাটো কাজেও দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট

কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকায় অনেক আবেদন ও ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব

হচ্ছে।

অফিসটির ২ জন কর্মচারী জানান, জনবল সংকটের কারণে অফিসের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে

পড়েছে। ঠিকাদাররা কাজের বিল নিতে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরছেন। গণমাধ্যম কর্মীরাও

বিজ্ঞাপন বিলের জন্য বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চলমান

উন্নয়ন প্রকল্প, কালভার্ট, সড়ক নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাজ সঠিকভাবে মনিটরিং

করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার ৩ জন ঠিকাদার জানান, জনবল সংকটের কারণে বিল নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ায় কাজ

সমাপ্ত করতে দেরী হচ্ছে। এতে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে জনগণের

দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। কাজের গতি একেবারে স্লো। তারা দ্রুত শূন্যপদগুলোতে জনবল

নিয়োগের দাবি জানান।

কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ হলে

অফিসের কার্যক্রমে গতিশীল ফিরে পাবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী

বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি তিনি অধিদপ্তরকে। অবহিত করেছেন। তারা এসমস্যা সমাধানের

আশ্বাসও দিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন