মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুশফিকের ১৬ হাজার রান

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক স্বর্ণালী অধ্যায় যোগ করলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার

মুশফিকুর রহিম। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টের অভিজাত ফরম্যাটে শততম ম্যাচ

খেলার গৌরব অর্জনের পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৬ হাজার

রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। আজ সোমবার (১৮ মে) পাকিস্তানের বিপক্ষে

সিলেট টেস্টে লড়াকু এক ইনিংস খেলার পথেই তিনি এই ইতিহাস গড়েন। বাংলাদেশের আর কোনো

ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৬ হাজার রান করার রেকর্ড নেই, যা মুশফিককে এক

অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে প্রত্যাশিত রান না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের জাত

চিনিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয়

ইনিংসে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখান তিনি। ম্যাচের তৃতীয় দিনের

চা-বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মুশফিক ৯০ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং এই লড়াকু ইনিংসটি

খেলার পথেই তিনি কাঙ্ক্ষিত ১৬ হাজার রানের গণ্ডি অতিক্রম করেন। তাঁর এই দুর্দান্ত

ফর্মে ভর করে বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় ইনিংসে একটি বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় মুশফিকুর রহিম এখন পর্যন্ত মোট ৪৭৮টি ম্যাচ

খেলেছেন। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁর সর্বমোট রান সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার

১১-তে। এই বিশাল সংগ্রহ গড়ার পথে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২টি সেঞ্চুরি এবং ৮৫টি

হাফ-সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন। তাঁর ব্যাটিং গড় প্রায় ৩৫-এর কাছাকাছি। শুরু থেকেই

দলের ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে

ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের আসনে আসীন

রেখেছেন।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় মুশফিকের ঠিক পরেই রয়েছেন ওপেনার

তামিম ইকবাল। ৩৮৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তামিমের সংগ্রহ ১৫ হাজার ১৯২ রান, যার

মধ্যে ২৫টি সেঞ্চুরি ও ৯৪টি ফিফটি রয়েছে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিশ্বসেরা

অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, যাঁর বর্তমান রান সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৩০। এছাড়া

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১১ হাজার ৪৭ রান এবং লিটন কুমার দাস ৮ হাজার ৮৪১ রান নিয়ে শীর্ষ

পাঁচের তালিকায় অবস্থান করছেন। সতীর্থদের চেয়ে রানের দিক থেকে মুশফিকের এই বড়

ব্যবধান তাঁর শ্রম ও নিষ্ঠারই প্রতিফলন।

উল্লেখ্য যে, সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর লড়াই চলছে।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রান সংগ্রহ করলে জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২৩২

রানে অলআউট হয়ে যায়। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ

বর্তমানে মুশফিকের ব্যাটে ভর করে বড় লিডের স্বপ্ন দেখছে। মুশফিকের এই ব্যক্তিগত

অর্জন কেবল তাঁর নিজের জন্য নয়, বরং পুরো দলের মনোবল বাড়াতে এবং সিরিজের ফল

নির্ধারণী এই ম্যাচে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন