পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও সর্বভারতীয় সাধারণ
সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর বাসভবনের একাংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে
কলকাতা পুরসভা। যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে নির্মাণের অভিযোগে গত সোমবার পুরসভার বিল্ডিং
বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত দুটি পৃথক নোটিশ জারি করা হয়েছে। একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে
অভিষেকের মালিকানাধীন সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে এবং অন্যটি দেওয়া
হয়েছে তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। এই আকস্মিক পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে
রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুরসভার দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮(এ)
নম্বরে অবস্থিত অভিষেকের নিজস্ব বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাট রোডের ১২১
নম্বরে লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের সম্পত্তিতে বেশ কিছু অংশ আইনবহির্ভূতভাবে
নির্মাণ করা হয়েছে। বিল্ডিং বিভাগের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, এই নির্মাণকাজের
জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। মূলত নকশা বহির্ভূত অংশগুলো শনাক্ত
করেই এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদেশে আরও জানানো হয়েছে যে, এই নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অংশগুলো
নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার
মধ্যে নির্দেশ পালন করা না হয়, তবে মিউনিসিপাল কমিশনার স্বয়ং সেই বর্ধিত অংশ ভাঙার
উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার যাবতীয় খরচ সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককেই
বহন করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সাত দিনের মধ্যে বাড়িগুলোর
সম্পূর্ণ কাঠামোগত তথ্য এবং ‘অ্যাজ-বিল্ট ড্রয়িং’ জমা দেওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ
দিয়েছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী; তিনি পশ্চিমবঙ্গের
সদ্য বিদায় নেওয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপন ভাইপো। ২০১১ সালে রাজনীতিতে আসা অভিষেক বর্তমানে দক্ষিণ
চব্বিশ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর মতো একজন প্রথম সারির নেতার বিরুদ্ধে পুরসভার এই কঠোর অবস্থান প্রশাসনিকভাবে
বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় ধরনের জয়
এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর রাজ্যজুড়ে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী বর্তমানে রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায়
রয়েছেন। এমন এক প্রতিকূল সময়ে দলীয় প্রধানের ভাইপোর বাড়িতে পুরসভার এই হানা এবং
ভাঙার নোটিশ প্রদান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এক মোড় নিল বলে বিশ্লেষকরা মনে
করছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টির ওপর গভীর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।





