, ,

সরবরাহ উদ্বেগে বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দুই দিন কমার পর আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মূলত

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববাজারে তেলের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত

হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল

জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব

পড়েছে বাজারদরে।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে

পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই

তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২৩ ডলারে

লেনদেন হচ্ছে। গত কয়েক দিনের দরপতনের পর বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আমদানিকারক

দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

তেলের দাম বাড়ার পেছনে মূলত কয়েকটি শক্তিশালী কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন

সংশ্লিষ্টরা। ইরান ইস্যুতে এখনো কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়ায় তেলের

সরবরাহ লাইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম

জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে

যাওয়াও বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মজুত হ্রাসের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি

নিরাপত্তার বিষয়টি এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায়

রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো চূড়ান্ত ও কার্যকর

চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের

বিষয়টি কোনোভাবেই বিবেচনা করা হবে না। হোয়াইট হাউসের এই অনড় অবস্থান তেলের বাজারের

অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তিনি

কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করবেন না এবং প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেও তিনি প্রস্তুত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক

উত্তেজনা প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা

ক্ষীণ। সরবরাহ লাইনের ঝুঁকি এবং বড় অর্থনীতির দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ মজুত পরিস্থিতি

এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান

আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক

বাজারদর স্থিতিশীল হবে কি না।

পোস্টটি শেয়ার করুন