রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

চার দিনের ভারত সফরে কলকাতায় পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত জোট ‘কোয়াড’-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের

গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে শনিবার ভোরে ভারত পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কো রুবিও। চার দিনের এই সফরের শুরুতেই তিনি কলকাতায় অবতরণ করেন এবং সেখানে

মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’র সদর দপ্তর ‘মাদার হাউস’ পরিদর্শন

করবেন। এরপর তাঁর ঐতিহাসিক স্থাপনার শহর আগ্রা ও জয়পুর ভ্রমণের কথা রয়েছে। কূটনৈতিক

সূত্রমতে, রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে এক

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাঁর

সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় কোয়াডভুক্ত চার

দেশ—ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় যোগ দেওয়াই

তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

সফরের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছেন, ‘ভারত আমাদের

গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার। তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে।

তাই এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’ মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

কঠোর শুল্ক নীতির প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক

বাণিজ্যিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক

করাই এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নয়া দিল্লিতে অবস্থানকালে তিনি মার্কিন

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা

অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন

বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি ও আগ্রাসী

অবস্থানের বিরুদ্ধে কোয়াড জোট দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার। অন্যদিকে, চীন বরাবরই দাবি করে

আসছে যে তাদের সামরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ ‘প্রতিরক্ষামূলক’ এবং তারা মনে করে কোয়াড

মূলত তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক প্রভাবকে সীমিত করার একটি

সুপরিকল্পিত উদ্যোগ। উল্লেখ্য যে, গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্বভার গ্রহণের পর রুবিও

তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেও কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমান সফরের মাধ্যমে এই অঞ্চলের

নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন