২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে আর্জেন্টাইন শিবিরে বড়
উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপা লিগের ফাইনালে ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলার খবরটি ছড়িয়ে
পড়তেই সমর্থকদের মধ্যে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে। ২০২২ বিশ্বকাপ এবং সর্বশেষ ইউরোপা
লিগের সেরা এই গোলরক্ষককে নিয়ে আলবিসেলেস্তেদের এমন অস্বস্তি স্বাভাবিক, কারণ
বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগের অন্যতম কাণ্ডারি তিনি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো
মেগা ইভেন্টের আগে দলের এক নম্বর গোলরক্ষকের চোট কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনাতেও
কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ও জাতীয় দলের সংবাদদাতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমিলিয়ানো
মার্টিনেজের আঙুলে একটি বিশেষ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেখানে ধরা পড়েছে যে তার আঙুলে
সামান্য ফাটল রয়েছে। তবে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এই ইনজুরির জন্য কোনো ধরনের
অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়বে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে তার
আনুমানিক ২০ দিন সময় লাগবে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগেই তিনি
শারীরিকভাবে ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আঙুলের এই সমস্যার কারণে মার্টিনেজকে আপাতত মাঠের বাইরে থাকতে হবে এবং তিনি বেশ
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করবেন। ক্লাব ফুটবলে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ম্যানচেস্টার
সিটির বিপক্ষে মৌসুমের শেষ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচটিতে তাকে দেখা যাবে না। এছাড়া
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচগুলোতেও তাকে
ছাড়াই মাঠে নামতে হবে দলকে। আগামী ৬ জুন হন্ডুরাস এবং ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে
প্রস্তুতি ম্যাচে মার্টিনেজকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
তবে বিশ্বকাপের মূল আসরে তাকে পাওয়া নিয়ে এখন আর কোনো বড় সংশয় নেই। ডিফেন্ডিং
চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আগামী ১৬ জুন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে
স্কালোনির শিষ্যরা। চিকিৎসকদের দেওয়া ২০ দিনের সময়সীমা অনুযায়ী, সেই ম্যাচের অন্তত
সপ্তাহখানেক আগেই মার্টিনেজ দলের সাথে পূর্ণ অনুশীলনে যোগ দিতে পারবেন এবং শুরুর
একাদশেও তার থাকা প্রায় নিশ্চিত।
‘দিবু’ মার্টিনেজ গত কয়েক বছর ধরে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম রূপকার হিসেবে
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চাপের মুখে তার অসামান্য দক্ষতা ও গোলপোস্টের নিচে
বিশ্বস্ত উপস্থিতি দলটিকে বারবার রক্ষা করেছে। যদিও প্রস্তুতির দুটি ম্যাচে তাকে
পাওয়া যাবে না, তবুও মূল আসরে তার ফেরা নিশ্চিত হওয়ায় কোটি ভক্ত স্বস্তির নিঃশ্বাস
ফেলছেন। বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রায় অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষকের উপস্থিতি আর্জেন্টিনার
শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।





