সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রূপগঞ্জে কোরবানির মাংস কাটার খাটিয়া-হোগলা বিক্রির ধুম

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রূপগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানির প্রস্তুতি।

পশুর হাটের পাশাপাশি এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাই সরঞ্জাম ও মাংস কাটার উপকরণ

বিক্রেতারা। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও বাজারের মোড়ে থরে থরে সাজানো দেখা

যাচ্ছে হোগলা, প্লাস্টিক ও মাংস কাটার কাঠের খাটিয়া কিংবা গাছের গুঁড়ি।

ঈদকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিভিন্ন আকার ও দামের এসব পণ্যের পসরা বসেছে।

বিক্রেতারা জানান, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে খাটিয়া

বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে তেঁতুল কাঠের তৈরি খাটিয়ার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে গাছের গুঁড়ির চাহিদা। রূপগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজার ও

সড়কের পাশে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে বসেছেন গাছের গুঁড়ির দোকান। তেঁতুল, নিম,

করইসহ নানা ধরনের গাছের গুঁড়ি পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ তেঁতুল কাঠ।

সাধারণত এক ফুট থেকে সোয়া ফুট দৈর্ঘ্যের এসব গুঁড়ি ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি

হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রেতা ইসলাম বলেন, “কোরবানির ঈদে খাটিয়া প্রয়োজন হয়। তাই এবার ৪০০ টাকায়

একটি তেঁতুল কাঠের খাটিয়া কিনেছি।” আরেক ক্রেতা ছালেক জানান, আগে মূলত কসাইরাই এসব

খাটিয়া ব্যবহার করতেন, তবে এখন সাধারণ মানুষও পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার সুবিধার

জন্য কিনে নিচ্ছেন।

উপজেলার একাধিক স-মিল মালিক জানান, সব গাছ দিয়ে ভালো গুঁড়ি তৈরি করা যায় না। তেঁতুল

কাঠ সবচেয়ে শক্ত ও টেকসই হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। অন্য গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাংস কাটলে

কাঠের গুঁড়া উঠে মাংসের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি সহজে

নষ্ট হয় না এবং পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করলে বহুদিন ব্যবহার করা যায়।

তারা আরও জানান, আগের মতো এখন আর সহজে তেঁতুল গাছ পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও বেশি

দামে কিনতে হয়। পরে স-মিলে এনে খণ্ড করে গুঁড়ি তৈরি করে বাজারজাত করা হয়।

মৌসুমি গুঁড়ি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা বলেন, ঈদকে ঘিরে গুঁড়ির কদর বেড়েছে। ছোট,

মাঝারি ও বড় তিন ধরনের গুঁড়ি বিক্রি করছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল

কাঠের গুঁড়ি, যার দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

রূপগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা আওলাদ ভুঁইয়া বলেন, “গরু কেনা শেষ। শুধু

গাছের গুঁড়ি কেনা বাকি ছিল। তেঁতুল কাঠ ভালো হওয়ায় ৩৫০ টাকায় একটি কিনলাম।” তিনি

জানান, পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটতে গাছের গুঁড়ি অনেক বেশি কার্যকর।

নবগ্রাম থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে তেঁতুল গাছ পাওয়া

কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তেঁতুল কাঠের তৈরি গুঁড়ির দাম কিছুটা বেশি। তবে এখন মানুষ

পরিচ্ছন্নভাবে মাংস কাটার বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক সচেতন।

অন্যদিকে মুড়াপাড়া বাজারে হোগলা বিক্রি করছেন আসলাম মিয়া। তিনি জানান, এবার হোগলার

দামও বেড়েছে। বিভিন্ন চরাঞ্চলে হোগলপাতা কম জন্মানোর কারণে সরবরাহ সংকট দেখা

দিয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে হোগলপাতা সংগ্রহ ও বুননের খরচ বেড়ে গেছে।

তার দোকানে বড় আকারের একটি হোগলা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় এবং মাঝারি আকারের হোগলা প্রায়

২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে রূপগঞ্জে পশুর পাশাপাশি কোরবানির আনুষঙ্গিক সামগ্রীর এই জমজমাট বাজার

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য এনে দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন