সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

নজরুল সংগীত ‘রুম ঝুম’ দিয়ে ফিরল কোক স্টুডিও বাংলা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা উঠল কোকা-কোলা বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীত আয়োজন

‘কোক স্টুডিও বাংলা’র চতুর্থ সিজনের। শনিবার (২৩ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের

জন্মবার্ষিকীতে বিশেষ সাংস্কৃতিক স্মারক হিসেবে কালজয়ী নজরুল সংগীত ‘রুম ঝুম’-এর

মাধ্যমে এই নতুন সিজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। যে সুর একসময় বসফরাস উপকূল

থেকে বাংলায় এসেছিল, সেই আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনকেই এই সিজনের উদ্বোধনী গানে

ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

‘রুম ঝুম’ গানটির একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা অনেকের কাছেই অজানা ছিল।

গানটির মূল সুর মূলত অটোমান-তুর্কি লোকসংগীত ‘উস্কুদারা গিদের ইকেন’ থেকে নেওয়া।

কবি নজরুল এই আন্তর্জাতিক সুরটি গ্রহণ করে তাকে চমৎকার এক বাংলা বর্ষার কবিতায়

রূপান্তর করেছিলেন। কোক স্টুডিও বাংলা চতুর্থ সিজনে সেই সংগীত ঐতিহ্যকে পুনরায়

একত্রিত করে একটি অনন্য ফিউশন তৈরি করেছে, যা নজরুলের সেই দীর্ঘ সাঙ্গীতিক ভ্রমণের

এক পূর্ণাঙ্গ রূপ তুলে ধরেছে।

এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় তরুণ শিল্পী মাহতিম শাকিব ও নুসরাত জাহান।

তাদের সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক কোলাবরেশনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন তুর্কি শিল্পী আলিফ

হান্দে সেভগেল ও মোস্তফা ইপেক। এই গানের মাধ্যমেই কোক স্টুডিও বাংলার মঞ্চে মাহতিম

শাকিবের অভিষেক হলো এবং নতুন কণ্ঠ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন নুসরাতও। গানটির সংগীত

পরিচালনা করেছেন শুভেন্দু দাস, যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুর্কি ও বাংলার এই

সুরের সেতুবন্ধনটি তৈরি করেছেন।

কোক স্টুডিও বাংলায় নিজের প্রথম কাজ সম্পর্কে মাহতিম শাকিব অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ

করেছেন। তিনি জানান, এমন একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বহন করা গানের অংশ হতে

পারা তাঁর জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, নুসরাত জাহান তাঁর অনুভূতির কথা

জানাতে গিয়ে বলেন, গানটি তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত অর্থবহ। তাঁর সংগীত

মেন্টর শুভেন্দু দাসের পরিচালনায় এমন একটি বড় প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু করাকে তিনি

স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনে মোট আটটি গান থাকবে। প্রতিটি গানই ভিন্ন

ভিন্ন আবেগ, সুরের মূর্ছনা এবং বিচিত্র সংগীত ধারার ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা

হয়েছে। আয়োজকদের মূল লক্ষ্য হলো আমাদের শেকড় ও ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান

প্রদর্শন করে কালজয়ী সংগীতকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা।

প্রথম গানের আন্তর্জাতিক সাফল্য ও সাড়া দেখে মনে করা হচ্ছে, এবারের সিজনটিও

দর্শকদের জন্য বড় ধরণের চমক নিয়ে আসছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন