বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এবার

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আজ বৃহস্পতিবার ভোর

৪টা ৫০ মিনিটে আইআরজিসি এই শক্তিশালী হামলা পরিচালনা করে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে

ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনী আকাশপথ ব্যবহার করে বন্দর আব্বাস

বিমানবন্দরের উপকণ্ঠে যে আগ্রাসন চালিয়েছিল, তার উৎসস্থল হিসেবে চিহ্নিত ঘাঁটিটিকে

লক্ষ্য করেই তারা এই নিখুঁত নিশানা করেছে। তবে আক্রান্ত মার্কিন ঘাঁটিটি ঠিক কোন

দেশে বা কোথায় অবস্থিত, সে বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া

হয়নি।

মূলত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে মার্কিন ও ইরানি

বাহিনীর মধ্যে প্রথম দফায় তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। একটি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা

গেছে, আইআরজিসি নেভি একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর সরাসরি গুলি চালায়, যা

রাডার সিস্টেম বা এআইএস বন্ধ করে বেআইনিভাবে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।

এই ঘটনার পরপরই মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়

এবং বন্দর আব্বাসের একটি নির্দিষ্ট পরিত্যক্ত এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। যদিও

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মার্কিন হামলায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের সম্পদের

ক্ষতি হয়নি, তবে বিকট বিস্ফোরণে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, বুধবার

রাতে চালানো তাদের এই বিমান হামলা ছিল সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক’। মার্কিন দাবি

অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন নৌবহর ও বাণিজ্যিক জাহাজের

জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করায় তারা ইরানের ৪টি ড্রোন মাঝ আকাশে ভূপাতিত করেছে। এছাড়া

বন্দর আব্বাসের একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে আঘাত হেনে তারা পঞ্চম আরেকটি

আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করেছে, যেটি উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া

হচ্ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই সামরিক পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত পরিমাপিত এবং এটি

মূলত দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে সমুদ্রসীমায় আরও একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন ৪টি রহস্যময়

নৌযান কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই পারস্য উপসাগরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ইরানি নৌবাহিনী

প্রথমে তাদের চলে যাওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দেয়, কিন্তু জাহাজগুলো সেই নির্দেশ

উপেক্ষা করায় আইআরজিসি নেভি সরাসরি সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করে। শেষ পর্যন্ত

নৌযানগুলো দিক পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই পাল্টাপাল্টি সংঘাতের চিত্রটি

যখন দোহায় চলমান শান্তি আলোচনাকে জটিল করে তুলছে, তখন ওয়াশিংটনে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও লাভজনক

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন

নিয়ে চিন্তিত না হয়ে তিনি একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছেন। তিনি সাফ জানিয়ে

দিয়েছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং হরমুজ প্রণালির

আন্তর্জাতিক জলপথ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। ট্রাম্পের মতে, এই শর্তগুলো

কোনোভাবেই পরিবর্তনযোগ্য নয় এবং এটিই হবে যেকোনো ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির প্রধান

ভিত্তি। দোহায় আলোচনার টেবিলে সমঝোতার চেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ের এই পাল্টাপাল্টি

সামরিক আক্রমণ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে

দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন