ফ্রান্স, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে হান্টাভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য
পরীক্ষামূলক একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রথম ডোজ পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক বিবৃতিতে ইইউ এই তথ্য নিশ্চিত করে।
হান্টাভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি এখন পর্যন্ত না থাকায় ইউরোপীয়
মেডিসিনস এজেন্সি ‘ফাভিপিরাভির’ নামের একটি অ্যান্টিভাইরালকে সম্ভাব্য কার্যকর ওষুধ
হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই ওষুধটি মূলত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল কিংবা জরুরি স্বাস্থ্য
পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের ওপর প্রয়োগ করা হতে পারে।
জাপানের ফুজিফিল্ম ফার্মাসিউটিক্যালস নামক একটি প্রতিষ্ঠান ফ্রান্স, স্পেন ও
নেদারল্যান্ডসের বিশেষ অনুরোধে ফাভিপিরাভিরের ১ হাজার ৪০০টি ট্যাবলেট অনুদান হিসেবে
দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে যদি নতুন করে সংক্রমণ আরও
বৃদ্ধি পায়, তবে অতিরিক্ত ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা ইতিমধ্যে একটি জরুরি
ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
একটি নির্দিষ্ট ক্রুজ শিপ বা প্রমোদতরিকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া এই হান্টাভাইরাসে
এখন পর্যন্ত ১৩ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্ত এই রোগীদের
নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকায়
বিশেষ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী,
ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে ছড়ানো এই ভাইরাসে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় এক লাখ মানুষ
আক্রান্ত হয়ে থাকে। ভাইরাসের তীব্রতা এর নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের ওপর নির্ভর করে এবং
এটি কখনো কখনো প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এই ভাইরাসটি সাধারণত
মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়ায় না। চলমান এই সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন
পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।





