যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার
রাতে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল বুশেহরে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির
সামরিক বাহিনী। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ড্রোনটি
মাটিতে নামিয়ে আনা হয়। এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা ও সংঘাতের
আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বুশেহরের জাম কাউন্টির গভর্নর মাসুদ তাঙ্গেসতানি আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম
নিউজকে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতে আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের
একটি যান সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোনটি ভূপাতিত করার পর স্থানীয় প্রশাসন
পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও
শান্ত রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে বুশেহর অঞ্চলটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয়
এই এলাকায় এর আগেও একাধিকবার বিদেশি ড্রোন বা আকাশযান ধ্বংস করার ঘটনা ঘটেছে।
এবারের ড্রোনটি ঠিক কী উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত
তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানি বাহিনীর এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে
যে, তারা তাদের আকাশসীমা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ড্রোন ভূপাতিত করার আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা থেকে বেশ কিছু মিসাইল নিক্ষেপ
করার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তাসনিম নিউজ সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট
লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করেই সেই মিসাইলগুলো ছোড়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোন ধ্বংস
এবং মিসাইল উৎক্ষেপণ—এই দুটি ঘটনাই বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনারই অংশ। ইরানের এই
জোরালো সামরিক অবস্থান মার্কিন সামরিক শক্তির প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা
হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এক কঠিন
চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ড্রোন ভূপাতিত করার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে
উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের
সূত্রপাত হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড্রোন
ধ্বংসের এই ঘটনা ওই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব
ফেলতে পারে।





