সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেকটা বাধ্য হয়েই অভ্যন্তরীণ বাজারে

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে

আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও তা দ্রুত

কমিয়ে আনা হবে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার কেবল তখনই এমন কঠিন ও অপ্রিয়

সিদ্ধান্ত নেয় যখন এছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

‘আমরা একটি কথা কিন্তু বারবার বলার চেষ্টা করেছি যে, একান্ত যখন উপায়হীন হবে সরকার

তখনই এ ধরনের অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত হয়তোবা নিতে বাধ্য হবে। তো মিডল ইস্ট

ক্রাইসিসের কারণে এ ধরনের বাস্তবতা এসেছে।’

প্রতিমন্ত্রী অমিত জানান, দেশের জ্বালানি ব্যবহারের ৬৬ শতাংশই ডিজেল হওয়ায় সাধারণ

মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও পণ্য পরিবহনের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর দাম অপরিবর্তিত রাখা

হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, ডিজেলের পেছনেই সরকারকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ভর্তুকি

দিতে হয়, তবুও ‘সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবে অ্যাফেক্টেড না হন’ সেই লক্ষ্যেই এর দাম

বাড়ানো হয়নি। তবে সামগ্রিক ব্যয় সামাল দিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে দাম

সমন্বয় করতে হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘না, না, আমি

খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি যে আমরা তো আশাবাদী যে মিডল ইস্ট ক্রাইসিস অচিরেই রিজলভ

(মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধান) হবে। আমি খুব দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি যদি গ্লোবাল

প্রাইস মানে শার্পলি ডিক্লাইন করে আমরাও খুব শার্পলি এটা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা

করবো।’ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল দেশের মানুষ যেন পায়, সেটি নিশ্চিত

করা হবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অতীতের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, ‘মানে বাড়ে যেভাবে হয়তো বা সেভাবে কমে না।

কিন্তু আমি এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যদি এই ক্রাইসিস রিজলভ হয় এবং

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে আসে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, যেহেতু

এটা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই দায়বদ্ধতার

জায়গা থেকে জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য আমরা ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেবো ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য যে, ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার

অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন