বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট বন্ধ হলেও চালু থাকবে সিনেমা হল

সারাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব ধরনের শপিং মল, মার্কেট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা

৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা পুনর্বহাল করেছে সরকার। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে

সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার যে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা

এখন আর কার্যকর থাকছে না। তবে এই কঠোর নির্দেশনার আওতা থেকে দেশের সিনেমা হল ও

সিনেপ্লেক্সগুলোকে মুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে শপিং মলের অভ্যন্তরে অবস্থিত সিনেমা

হলগুলো আগের মতোই তাদের পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিয়মিত প্রদর্শনী বা শো চালিয়ে

যেতে পারবে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিনেমা হলের কার্যক্রম যেন

বিঘ্নিত না হয় সে লক্ষ্যে তারা আগে থেকেই তৎপর ছিলেন। সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন

উজ্জ্বল নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ঈদের আগেই তথ্য মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে একটি বিশেষ

আবেদন জমা দিয়েছিলেন। মন্ত্রণালয় সেই আবেদন বিবেচনা করে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং

সরকারি ফিরতি চিঠির মাধ্যমে সিনেমা হলগুলোকে এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখার

বিষয়টি অনুমোদন করেছে। এর ফলে শপিং মলের ভেতরে থাকা প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমা দেখতে

আসা দর্শকদের জন্য আর কোনো দুশ্চিন্তার কারণ থাকছে না।

স্টার সিনেপ্লেক্সসহ দেশের বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে

তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে

শপিং মল বা মার্কেট বন্ধ হয়ে গেলেও সিনেমা হলের প্রবেশপথ এবং প্রদর্শনী ব্যবস্থাপনা

স্বাভাবিক নিয়মেই কাজ করবে। এর ফলে দর্শকরা নির্বিঘ্নে রাতের শো বা পরবর্তী

প্রদর্শনীগুলো উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। মূলত ঈদের মৌসুমে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর

চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবং দর্শকদের সুবিধার্থে এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে মনে

করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মোট আটটি নতুন সিনেমা

মুক্তি পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘বনলতা সেন’, ‘মালিক’,

‘পিনিক’, ‘অফিসার’, ‘মাসুদ রানা’ এবং ‘তছনছ’। সিনেমা হলগুলো সন্ধ্যা ৭টার পর খোলা

থাকার সিদ্ধান্তের ফলে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিগুলো ব্যবসায়িকভাবে আরও বেশি দর্শক

পাওয়ার সুযোগ পাবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য

পূরণ হবে, অন্যদিকে বিনোদন খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সচল থাকবে। বর্তমানে দেশের

সব মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে দর্শকরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের পছন্দের

সিনেমাগুলো উপভোগ করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন