শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশসহ ৬০টি

দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সরকারি নথি অনুসারে,

৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক

আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য

মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ কারণেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চীন,

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাপানসহ বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন তদন্ত

শুরু করার কয়েক মাস পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানায়, এই

দেশগুলোর মধ্যে ৫৪টি ‘জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ

এবং কার্যকরভাবে তা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে’।

এমন সময়ে এ প্রস্তাব দেওয়া হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন তার জরুরি শুল্ক কাঠামো

পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ওই

শুল্কব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল।

ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডা,

ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা,

বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং

যুক্তরাজ্য থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত

নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, তদন্তাধীন বাকি ৪৫টি দেশের ওপর

অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

কোন দেশের ওপর কত শুল্ক?

ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকো,

তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, এল

সালভাদর ও গুয়াতেমালাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের

প্রস্তাব করা হয়েছে।

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ শুল্ক বাতিল হচ্ছে কাদের জন্য?

অন্যদিকে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডসহ আরও অন্তত

৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া

হয়েছে। ফলে প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় বেশি

শুল্ক আরোপ হবে।

কেন এই শুল্ক প্রস্তাব?

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা

৩০১-এর আওতায় কয়েক মাস আগে বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি

না এবং তাদের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা

খতিয়ে দেখা হয় তদন্তে। এর ভিত্তিতেই নতুন শুল্ক প্রস্তাব আনা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশল?

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত ট্রাম্প

প্রশাসনের বেশ কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে। এরপর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক

ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক কাঠামো

কার্যকর হলে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের আরোপিত কিছু সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ

পেতে পারে।

বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে?

প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের খরচ বেড়ে যেতে পারে।

এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান প্রভাবিত হওয়ার

আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর বাজারে যেসব দেশ বড় পরিসরে পণ্য

রপ্তানি করে, তাদের জন্য অতিরিক্ত শুল্ক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তবে এখনই এর প্রভাব নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত

হয়নি এবং জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন