বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুল বা
‘হুইলিং চার্জ’ বৃদ্ধির কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার
গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) বার্ষিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে
বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার কোম্পানিটি এক মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের (পিএসআই)
মাধ্যমে জানিয়েছে যে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের বাৎসরিক আয় প্রায় ৭০০ কোটি
টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই ইতিবাচক আর্থিক পূর্বাভাসের কথা
আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
পিজিসিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আয়ের প্রধান উৎস হলো জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে
বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা এবং এর বিনিময়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে
মাশুল আদায় করা। গতকাল বুধবার (৩ জুন) বিইআরসি বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম
বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন মূল্য হারও পুনর্নির্ধারণ করেছে, যা চলতি জুন মাস থেকেই
কার্যকর হচ্ছে। তবে কোম্পানিটি স্পষ্ট করেছে যে, আয়ের এই আনুমানিক প্রবৃদ্ধি মূলত
দেশে বিদ্যুতের সামগ্রিক উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদার ওপর অনেকাংশে
নির্ভর করবে।
সরকার নির্ধারিত নতুন হার অনুযায়ী, বিভিন্ন ভোল্টেজ স্তরের সঞ্চালন চার্জে বড়
পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৩০ কেভি (কিলো ভোল্ট) সঞ্চালন লাইনের ক্ষেত্রে চার্জ প্রতি
ইউনিটে শূন্য দশমিক ৩০৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ৩৭৮৯ টাকা করা হয়েছে।
একইভাবে ১৩২ কেভি লাইনের ক্ষেত্রে চার্জ শূন্য দশমিক ৩০৮৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে শূন্য
দশমিক ৩৮২৫ টাকা এবং ৩৩ কেভি লাইনের জন্য বর্তমানের শূন্য দশমিক ৩১৮৪ টাকার
পরিবর্তে নতুন হার শূন্য দশমিক ৩৮৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো
জাতীয় গ্রিড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ নেওয়ার সময় এই বর্ধিত হারে পিজিসিবিকে অর্থ প্রদান
করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঞ্চালন মাশুল বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির
আর্থিক ভিতকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গ্রিড
নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত আয় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এর
ফলে পুঁজিবাজারে বিদ্যুৎ খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ
আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন ও চাহিদার ভারসাম্য ঠিক না থাকলে আয়ের
এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা ভিন্নতা দেখা দিতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে পিজিসিবি
কর্তৃপক্ষ।





