বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

টোটা যখন শরৎচন্দ্র: সৃজিতের নতুন চমক

কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের দাবী’

প্রকাশের শতবর্ষ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ওপার

বাংলার খ্যাতিমান নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি নির্মাণ করছেন বড় বাজেটের চলচ্চিত্র

‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। গত বছর ছবিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই দর্শকদের

মাঝে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। অবশেষে গতকাল বুধবার সিনেমাটির ৫৯ সেকেন্ডের একটি রহস্যময়

প্রি-টিজার প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে টোটা রায়চৌধুরীকে শরৎচন্দ্রের অবয়বে দেখে

বিষ্মিত হয়েছেন দর্শক। বৃষ্টির আবহে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত টোটার শান্ত অথচ দৃঢ়

উপস্থিতি শরৎচন্দ্রের চরিত্রটিকে এক নতুন প্রাণ দিয়েছে।

প্রি-টিজারে কেবল লেখক শরৎচন্দ্রকেই নয়, দেখা মিলেছে উপন্যাসের কালজয়ী বিপ্লবী

চরিত্র সব্যসাচীরও। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা

আবীর চট্টোপাধ্যায়। ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে পুরোদস্তুর এক বিপ্লবীর সাজে; দুই হাতে

দুটি পিস্তল এবং পরনে সাদা শার্টের ওপর কোট ও টুপি। টোটার কণ্ঠে ‘দেখা হোক এবার

পুজোয়, সঙ্গে থাকুক সব্যসাচী’ সংলাপটি দর্শকদের মাঝে বাড়তি রোমাঞ্চ সৃষ্টি করেছে।

মূলত উপন্যাসের সেই উত্তাল বিপ্লবী সময় এবং ব্রিটিশ প্রশাসনের সাথে শরৎচন্দ্রের এক

বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক যুদ্ধের ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে এই ছোট্ট ঝলকে।

১৯২৬ সালে প্রকাশিত ‘পথের দাবী’ উপন্যাসটি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে ব্যাপক

আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের কাছে

হয়ে উঠেছিল বিপ্লবের প্রতীক। কথিত আছে, তৎকালীন এক দাপুটে বিপ্লবীর আদলে এই

চরিত্রটি চিত্রায়ণ করেছিলেন শরৎচন্দ্র, যিনি ব্রিটিশদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একের

পর এক সাহসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতেন। সৃজিত মুখার্জি তাঁর এই চলচ্চিত্রে কেবল

সাহিত্যের গল্পই নয়, বরং সেই ঐতিহাসিক দ্রোহকাল এবং ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে

শরৎচন্দ্রের লেখনীর লড়াইকে সেলুলয়েডের পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চলেছেন।

এই সিনেমায় টোটা রায়চৌধুরী ও আবীর চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও অভিনয় করছেন মিমি চক্রবর্তী,

দিব্যাণী মণ্ডল ও ঋক চট্টোপাধ্যায়। তবে তাদের চরিত্রগুলো নিয়ে নির্মাতা এখনো

পুরোপুরি গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন। নন্দী মুভিজ প্রযোজিত এই চলচ্চিত্রটি আগামী

দুর্গাপূজায় বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সাহিত্যনির্ভর এবং ঐতিহাসিক

প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমা হিসেবে ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ বর্তমান প্রজন্মের

কাছেও এক নতুন আবেদন নিয়ে আসবে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রি-টিজারের

আবহ সংগীত ও দৃশ্য নির্মাণ সেই পুরনো কলকাতাকে নতুন করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন