শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তার প্রতীক: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল

ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা,

সার্বভৌমত্ব এবং এ দেশের মানুষের স্বকীয়তার প্রতীক। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অল্প

সময়ের মধ্যে এই ভূখণ্ডের মানুষকে একটি অনন্য জাতীয় পরিচিতি (আইডেন্টিটি) তৈরি করে

দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে

আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল

এ কথা বলেছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান

প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন

করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর

জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লন্ডন

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড.

মুশতাক খান। আলোচকের বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ ও

ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন দেশের মানুষ

একটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, গোটা দেশের মানুষ তাদের নেতার কাছ থেকে যুদ্ধের

ঘোষণার প্রত্যাশা করছিল- সেটা যখন আসলো না, তখন এক সাধারণ মেজর চট্টগ্রাম থেকে হঠাৎ

করেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। পাকিস্তান

হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে যেভাবে এ দেশের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে,

নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে; সে কারণে পাকিস্তানি বর্বরতাকে কখনোই ক্ষমা করতে

পারি না।’

এলজিআরডি মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৪৮ সালে জন্ম

নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে আমি পাকিস্তানের অংশ ও তাদের শোষণ-বঞ্চনা প্রচুর দেখেছি।

একাত্তরের সেই ভয়ংকর যুদ্ধ ও পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতাকে আমি খুব কাছ থেকে একজন

সংগঠক হিসেবে দেখেছি। আর সেই কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার কাছে একজন

অনন্য ও ক্ষণজন্মা পুরুষ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।’

বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সবসময়ই একটি

উদার ও বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি (লিবারেল ডেমোক্র্যাসি) লালন করে। জিয়াউর

রহমানের রাজনীতি ছিল সবাইকে নিয়ে পথ চলার, কোনো বিভাজন সৃষ্টি নয়। একটি

ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামো ও অর্থনীতির মধ্যে এসে তিনি নতুন কোনো বিভক্তি না করে,

সমস্ত রাজনৈতিক চিন্তার দলগুলোকে নিয়ে প্রথমে ফ্রন্ট ও পরে বিএনপি গঠন করেন।

রাজনীতির মূল বিষয়টাই ছিল ‘রিকন্সিলিয়েশন’ বা সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

এই প্রথা তিনিই চালুর করে গেছেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কারো শত্রু বানাতে চাননি; এটাই

ছিল তার রাজনীতি। বরং সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রতিষ্ঠা

করার চেষ্টা করেছিলেন, এজন্য তিনি সফল হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশকে আধিপত্যবাদের

বাইরে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।’

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ

সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ,

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল

এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএস-এর সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির,

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিম উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন