পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রচার হওয়া অসংখ্য নাটকের ভিড়ে স্বতন্ত্র গল্পের গুণে
দর্শকদের বিশেষ নজর কেড়েছে ‘বই পোকা’। গত ২ জুন ইউটিউব চ্যানেল ‘ক্লাব ইলেভেন
এন্টারটেইনমেন্ট’-এ প্রকাশের পর থেকেই নাটকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার
কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রচারের মাত্র চার দিনের মাথায় প্রায় ৯ লাখেরও বেশি দর্শক
এটি উপভোগ করেছেন। গড়পড়তা কমেডি কিংবা ট্রেন্ডি গল্পের বিপরীতে এক শৈল্পিক ও
পারিবারিক ঘরানার রোমান্টিক গল্প দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যার প্রতিফলন
দেখা গেছে ভিডিওর কমেন্ট বক্সে থাকা হাজারো ইতিবাচক মন্তব্যে।
আকবর হায়দার মুন্নার মূল গল্প ভাবনায় নাটকটি রচনা করেছেন লিমন আহমেদ এবং পরিচালনা
করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা তপু খান। এই নাটকের মূল উপজীব্য হলো বর্তমান সময়ে সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর মানুষের অতিমাত্রায় আসক্তি এবং এর নেতিবাচক প্রভাব। গল্পের
মাধ্যমে এই প্রজন্মের তরুণদের সাহিত্যের প্রতি মনোযোগী হওয়ার এক বিশেষ বার্তা দেওয়া
হয়েছে। পরিচালক তপু খান জানিয়েছেন, নির্মাণের সময়ই তাঁর ধারণা ছিল যে সমাজ ও
জীবনধর্মী এই বিষয়টি দর্শকদের স্পর্শ করবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের
স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় পুরো টিম এখন দারুণভাবে উৎসাহিত।
নাটকটিতে প্রধান চরিত্রে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার এবং এ প্রজন্মের
উদীয়মান অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান। তাঁদের অনবদ্য অভিনয় ও পর্দার রসায়ন
দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। অভিনেতা খায়রুল বাসার নাটকটি সম্পর্কে বলেন যে ‘বই পোকা’র
সংলাপগুলো ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী, যা চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে। অন্যদিকে
অভিনেত্রী সাদনিমা জানান, দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে এটি তাঁর অন্যতম সেরা একটি কাজ এবং
নিজের অভিনীত চরিত্রটির প্রতি তিনি নিজেই মায়ায় পড়ে গেছেন।
গল্পকার আকবর হায়দার মুন্না বর্তমানে সমাজে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে চলা বাড়াবাড়ি ও
পারিবারিক সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, মানুষ এখন বই
পড়া থেকে দূরে সরে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তা তুলে ধরাই ছিল এই গল্পের
প্রধান লক্ষ্য। নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন দেশের গুণী শিল্পী আজিজুল হাকিম, মুনীরা
ইউসুফ মেমী, আব্দুল্লাহ রানা এবং রোজি সিদ্দিকী। এছাড়া একটি বিশেষ চরিত্রে প্রবীণ
অভিনেতা তারিক আনাম খানের উপস্থিতি গল্পের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘বই পোকা’ নাটকটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক দলিল
হিসেবে দর্শকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। বর্তমানে প্রচার হওয়া নাটকের ভিড়ে এমন জীবনমুখী
ও গঠনমূলক গল্প দেশের নাট্য অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নির্মাতারা মনে করছেন,
এই ধরনের কাজের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বেশি মানসম্পন্ন এবং বার্তাভিত্তিক নাটক
নির্মাণের পথ প্রশস্ত করবে। দর্শকদের ভালোবাসায় ‘বই পোকা’ এখন চলতি বছরের অন্যতম
সফল ঈদের নাটকের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।





