কুমিল্লা-টু-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী
বাসে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যার পূর্বে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার
কংসনগর বাজার সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন যাত্রী আহত হন এবং
নগদ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আশু ফকিরের বাড়ি
সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের একটি হাইএস (Hiace) মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে এসে রয়েল
ক্লাসিক পরিবহনের বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় বাসের চালক সুজন ও হেলপার সাওন গাড়ি
সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যাত্রীরা চালককে রক্ষা করতে
এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, “কংসনগর বাজারে আয়।”
পরে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বাসটি কংসনগর বাজারে পৌঁছালে হাইএস মাইক্রোবাসে থাকা ১০
থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাসে উঠে
যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা যাত্রীদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে
নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা মোট ৫১ হাজার ৩০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন
সংবাদকর্মীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
আফসারের কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে
নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরনের জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করা
হয়। ঘটনার পর ডাকাতরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা
গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার সময় আমরা হাইওয়ে
ডিউটির কাজে দেবপুর ফাঁড়িতে ছিলাম। অভিযোগ বা মামলা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং
উপজেলার উত্তর ভারেল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম সিং গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সাকিল
মিয়ার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক
কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন,
“ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যাত্রীরা রয়েল ক্লাসিক
পরিবহনের শাসনগাছা কাউন্টারে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত
কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রয়েল ক্লাসিক
পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের
চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।





