মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিমা খাতের দাপটে ফের চাঙা শেয়ারবাজার, সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান

এক কার্যদিবসের ব্যবধানে দেশের শেয়ারবাজার আবারও বড় ধরণের উর্ধ্বমুখী প্রবণতায়

ফিরেছে। গত সোমবারের ঢালাও দরপতনের ধাক্কা কাটিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিনিয়োগকারীদের

ব্যাপক সক্রিয়তায় বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসে। এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে প্রধান

অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বিমা খাত। এদিন অধিকাংশ বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি

পাওয়ায় অন্যান্য খাতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যার ফলে দিনশেষে মূল্যসূচক ও

লেনদেনের অংকে বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা গেছে। এই উত্থানের মাধ্যমে গত ১১ কার্যদিবসের

মধ্যে ১০ দিনই শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী থাকল।

মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতি

বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই খাতের দাপট

আরও বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করে। ঢাকা

স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে,

বিপরীতে দর হারিয়েছে ১০০টি এবং ৫১টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে বিমা

খাতের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টিরই দাম বেড়েছে। এই ব্যাপক উর্ধ্বগতির প্রলেপে

ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০

সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও এদিন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যা আগের

কার্যদিবসের তুলনায় ৩১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষে ছিল এনসিসি ব্যাংক,

যার ৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে ছিল

সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় নাম

লিখিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ও

বেক্সিমকো ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিভিন্ন শ্রেণির শেয়ারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানকারী

ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন ১৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। পাশাপাশি ‘জেড’

গ্রুপের ৫৩টি এবং মাঝারি মানের ৬০টি কোম্পানির শেয়ারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে

সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩৮টি

প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দাম বেড়েছে এবং ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন

হয়েছে। বিমা খাতের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি ও বড় মূলধনী শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের

ঝোঁক বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার দ্রুত তার ক্ষতি কাটিয়ে উর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে সক্ষম

হয়েছে। মূলত ক্রেতাদের সক্রিয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রবাহই এই

উত্থানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন