প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের
নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই সভায় নতুন ও
সংশোধিত মিলিয়ে মোট ১২টি প্রকল্প উপস্থাপিত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের এটি চতুর্থ
একনেক সভা এবং চলতি অর্থবছরের ১২তম বৈঠক। সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক
অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জনকল্যাণমূলক
কাজে গতি আনার নির্দেশ দেন।
অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের জন্য মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭
লাখ টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব
তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে এবং বাকি ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী
সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসবে। গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৫টি সম্পূর্ণ
নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত
সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
ভৌত অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরিশাল সেচ
প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ
প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি আধুনিক নগর ভবন
নির্মাণ এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ
প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল
ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও এই সভায় সবুজ সংকেত পেয়েছে।
পাশাপাশি ঢাকার সিএমএইচ-এ একটি অত্যাধুনিক ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণের সংশোধিত
প্রস্তাবটিও সভায় গৃহীত হয়েছে।
শিক্ষা ও বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়নেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে আজকের সভায়। মাদ্রাসা
শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে এমইএমআইএস সাপোর্ট
প্রকল্প এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের সংশোধিত প্রকল্প
দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিদ্যমান
গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা বর্ধনের একটি প্রকল্পও এই তালিকার
অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও দেশের ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউজ এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের
কার্যালয়ে আধুনিক লিফট সংযোজনের মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজ করতে জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প পাস হয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের
প্রতিমন্ত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন। মূল ১০টি প্রকল্পের পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রী
কর্তৃক ইতোমধ্যেই অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ৬টি প্রকল্প সম্পর্কে
সভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন পৌরসভায় পানি সরবরাহ, ঢাকার
যানজট নিরসন এবং ডাকসেবার আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত
রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে
দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভাটি সমাপ্ত হয়।





