ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে হরাল বাংলাদেশ। এ যেন টাইগারদের ‘ক্যাঙ্গারু-বধ’।
২১ বছর পর এ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট, টি-টোয়েন্টিতে
জিতলেও ওয়ানডেতে জয় পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে মিরপুরে মঙ্গলবার দীর্ঘ ২১ বছরের
অপেক্ষা শেষে নিজের মাঠে জয় পেল বাংলাদেশ।
তুলনামূলক খর্বশক্তির অজিদের বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পরশু মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। ১৪ জুন হবে তৃতীয় ওয়ানডে।
২৮৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। দারুণ এক
ডেলিভারিতে অজি ওপেনার ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পর আঘাত
হানলেন মোস্তাফিজুর রহমানও। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে মারনাস লাবুশেনের বিপক্ষে
এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন মোস্তাফিজ করলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ
রিভিউ নিয়ে লাবুশেনকে (১) আউট করেছেন।
অস্ট্রেলিয়া অবশ্য ৬ রানেই হারাতে পারত তৃতীয় উইকেট। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে
মোস্তাফিজকে কাট করতে যান কনোলি। এজ হওয়া বল প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ
হাসান তামিমের হাত ফসকে চলে যায় বাউন্ডারিতে। কনোলির রান তখন কেবল ১।
তৃতীয় উইকেটে ৫৩ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন ইংলিস-কুপার কনোলি। অজিদের ইনিংসের পাওয়ার
প্লে শেষ হতেই ইংলিসকে ফেরান রানা। ১১তম ওভারের প্রথম বলে রানার ঘণ্টায় ১৪৭.৯
কিলোমিটার গতির ডেলিভারি কাট করতে যান অজি অধিনায়ক জশ ইংলিস। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের
ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় লিটনের হাতে। ইংলিসের সঙ্গে রানার ঝগড়া লাগার মতো
যখন অবস্থা, তখন অধিনায়ক মিরাজসহ আরও অনেকেই এগিয়ে আসেন। ফলে ঝগড়া দীর্ঘস্থায়ী
হয়নি।
ইংলিসের বিদায়ের পর আরও একটি বড় জুটি গড়তে অবদান রাখেন কনোলি। চতুর্থ উইকেটে ৫৫ বলে
৪৪ রানের জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি-কনোলি। ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে কনোলিকে (৩৫)
বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
কনোলি ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর হয়ে যায় ১৯.২ ওভারে ৪ উইকেটে ৯১ রান। বাংলাদেশের
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অজিরা চোখে শর্ষেফুল দেখতে থাকে। বিশেষ করে রানার গতি ও
বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭), লিয়াম স্কট (২) ও হ্যাভিয়ের বার্টলেট
(১) ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। রানার উইকেটের ফাঁকে উইকেটের দেখা পেয়েছেন
মোস্তাফিজ-সৈকতও। রেনশকে (২) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন সৈকত। নাথান এলিসকে (৮)
ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ। ক্যাচ ধরেন সৈকত।
১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পা-ক্যামেরন
গ্রিন খেলতে থাকেন হারের ব্যবধান কমাতে। দুজনে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়ার পর
বজ্রপাতের কারণে ম্যাচ বন্ধ রাখা হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে আম্পায়াররা ম্যাচ বন্ধের
ঘোষণা দেওয়ার পর কিছুক্ষণ পর নামে বৃষ্টি।
এর আগে মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
অস্ট্রেলিার অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি একই সঙ্গে দলটির উইকেটরক্ষকও। আগে ব্যাটিং
পাওয়া বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে করে ২৮৪ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এটা তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসও। ৭০ বলের ইনিংসে ৭
চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন।
ফিফটি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তও। তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে
৫৪ রান। শান্ত করেছেন ৬৭ রান। অজি পেসার নাথান এলিস ১০ ওভারে ৩৮ রানে নিয়েছেন ৩
উইকেট। এক ওভার মেডেন দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের স্কোর ২৮৪ রান হওয়ার পেছনে অস্ট্রেলিয়ার পিচ্ছিল হাতেরও অবদান রয়েছে। ২৪
রানেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেট পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এলিসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে
ক্যাচ হাতছাড়া করেন লাবুশেন। ৯ রানে বেঁচে যাওয়া শান্ত আউট হয়েছেন ৬৭ রানে।





