শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কার্টুন ‘স্কুবি-ডু’ ও তার গোয়েন্দা দলটি এবার নতুন এক আঙ্গিকে
ফিরছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে। সম্প্রতি ওটিটি
জায়ান্টটি তাদের আসন্ন লাইভ-অ্যাকশন সিরিজ ‘স্কুবি-ডু: অরিজিনস’-এর একটি প্রাথমিক
ঝলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ছোট এই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি
গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের ঘন জঙ্গলে দৌড়ানোর সময় শ্যাগির সাথে প্রথমবার দেখা হয় গ্রেট
ডেন জাতের কুকুর স্কুবি-ডুর। জনপ্রিয় এই কার্টুনটির আধুনিক ও বাস্তবসম্মত রূপান্তর
ভক্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
সিরিজটির শুটিং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় পুরোদমে চলছে এবং এটি ২০২৭ সালে
নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স টেলিভিশনের ব্যানারে
সিরিজটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে বার্লান্টি প্রোডাকশনস ও মিডনাইট রেডিও। সিরিজের মূল
গোয়েন্দা দল ‘মিস্ট্রি ইনক’-এর চিরচেনা চরিত্রগুলোতে দেখা যাবে একঝাঁক প্রতিভাবান
তরুণ তারকাকে। এছাড়া জনপ্রিয় অভিনেতা পল ওয়াল্টার হাউজার এই সিরিজে একটি
গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন। সিরিজটির লেখক ও প্রধান পরিচালক হিসেবে
রয়েছেন জশ অ্যাপেলবাম ও স্কট রোজেনবার্গ, আর এর প্রথম পর্বটি পরিচালনা করছেন
প্রখ্যাত পরিচালক টবি হেইন্স।
‘স্কুবি-ডু: অরিজিনস’-এর গল্পটি মূলত এই গোয়েন্দা দলের একদম শুরুর দিকের কাহিনী
নিয়ে সাজানো হয়েছে। ক্যাম্পের শেষ গ্রীষ্মের ছুটিতে পুরনো দুই বন্ধু শ্যাগি ও
ড্যাফনি একটি রহস্যময় ঘটনার মুখোমুখি হয়। কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি
হারিয়ে যাওয়া গ্রেট ডেন কুকুরছানা, যে সম্ভবত একটি অতিপ্রাকৃত হত্যাকাণ্ডের
প্রত্যক্ষদর্শী ছিল। পরবর্তীতে দলের বাকি দুই সদস্য ভেলমা এবং নতুন ছেলে ফ্রেডিকে
সাথে নিয়ে তারা এই জটিল রহস্যের সমাধানে নামে। পুরো সিরিজ জুড়ে এই দলের গড়ে ওঠার
পেছনে থাকা রোমাঞ্চকর সব অভিযান ফুটিয়ে তোলা হবে।
গল্পটি কেবল সাধারণ রহস্য সমাধান নয়, বরং গভীর এক মনস্তাত্ত্বিক মোড় নিতে যাচ্ছে
বলে নির্মাতারা আভাস দিয়েছেন। তদন্ত করতে গিয়ে মিস্ট্রি ইনক দলটি এমন এক
দুঃস্বপ্নের জালে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য ফাঁস করে
দেওয়ার হুমকি দেয়। এই আধুনিক রূপান্তরটি আগের অ্যানিমেশন সিরিজের তুলনায় অনেকটা
রহস্যময় এবং রোমহর্ষক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছেলেবেলার প্রিয় চরিত্রগুলোকে
রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে নতুনভাবে পর্দায় দেখার অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের জন্য
নেটফ্লিক্সের এই উদ্যোগ একটি বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





