২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আইসল্যান্ডকে হারিয়ে
নিজেদের প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
আমেরিকার আলাবামায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে
পরাজিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচজুড়ে চেনা ছন্দে থাকা
আলবিসেলেস্তেরা আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং ড্রিবলিংয়ের শৈল্পিক প্রদর্শনীতে দর্শকদের
মুগ্ধ করেছে। যদিও বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তারা হাতছাড়া করেছে, তবুও মাঠের
আধিপত্য বজায় রেখে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তিনবারের বিশ্বজয়ীরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আইসল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর
ফলশ্রুতিতে ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটেই লিড পায় তারা। তরুণ উদীয়মান তারকা
ভ্যালেন্টিন বারকোর এক দর্শনীয় গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমার্ধের বাকি
সময় আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগ আর্জেন্টিনা ফরোয়ার্ডদের রুখে দেওয়ার চেষ্টা করলেও
স্কালোনির দল একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে
যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
খেলার ৭০তম মিনিটে এক তরুণ তুর্কি বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে
দেন। তাঁর বাড়ানো চমৎকার এক পাস ধরে আইসল্যান্ডের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন লাওতারো
মার্টিনেজ। তাঁকে অবৈধভাবে বাধা দিলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। অধিনায়ক লিওনেল
মেসি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ
করেন। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে লাওতারো মার্টিনেজ নিজে গোল করে ৩-০ ব্যবধানের জয়
নিশ্চিত করেন। এই জয়টি বিশ্বকাপের মূল আসরে নামার আগে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের
আত্মবিশ্বাসকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল লিওনেল মেসির করা শেষ গোল। এই
পেনাল্টি গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের মূল আসরে এক অনন্য ইতিহাস গড়ার আগাম সংকেত
দিয়ে রাখলেন। কাতার বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে চারটি গোল করে তিনি ইতোমধ্যেই এই
তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে আর একটি মাত্র পেনাল্টি গোল করতে
পারলেই মেসি ফুটবল ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে এককভাবে চূড়ায় বসবেন। ব্যক্তিগত এই
মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি দলকে আরও একটি বিশ্বকাপ জেতানোই এখন এই ফুটবল
জাদুকরের প্রধান লক্ষ্য।
আলাবামার এই দাপুটে পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে আর্জেন্টিনা দল বর্তমানে শারীরিক ও
মানসিকভাবে দারুণ অবস্থানে রয়েছে। স্কালোনির রণকৌশল এবং তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের
মেলবন্ধন দলটিকে আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন কেবল
বিশ্বমঞ্চে বল মাঠে গড়ার অপেক্ষা। সমর্থকরা আশা করছেন, প্রস্তুতির এই তুঙ্গস্পর্শী
ফর্ম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের মূল পর্বেও ধরে রাখতে পারবে এবং ভক্তদের আরও একটি
স্মরণীয় টুর্নামেন্ট উপহার দেবে।





