বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শিল্পকলায় বিবেকানন্দ থিয়েটারের ‘ভাসানে উজান’

রাজধানীর মঞ্চে আবারও ফিরছে বিবেকানন্দ থিয়েটারের প্রশংসিত নাটক ‘ভাসানে উজান’।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আগামীকাল বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা

৭টা ১৫ মিনিটে নাটকটির নবম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের নভেম্বরে উদ্বোধনী

প্রদর্শনীর পর থেকে এটি দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। ইতোমধ্যে আটটি সফল

প্রদর্শনী সম্পন্ন হওয়া এই প্রযোজনাটি আবারও মঞ্চে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা

করছেন নাট্যপ্রেমীরা।

বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক ফিওদর দস্তয়ভস্কির অমর ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’

অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই নাটকটি। মানুষের অন্তর্নিহিত নীরবতা, গভীর অপরাধবোধ,

ভালোবাসা ও একাকিত্বের সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বগুলোকে কেন্দ্র করেই এর

কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। এটি মূলত একটি অন্তর্মুখী জীবনযাত্রা, যেখানে গতানুগতিক

সংলাপের চেয়ে অনুভবের ভাষাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নাটকের কেন্দ্রীয় একক

চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান, যাঁর শক্তিশালী অভিনয়

মানুষের অন্তর্লোকের জটিল রহস্যগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে।

‘ভাসানে উজান’ নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু এবং

নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নির্দেশকের মতে, দস্তয়ভস্কির জটিল

মনস্তত্ত্বকে সংবেদনশীল নাট্যরূপের মাধ্যমে একটি একক চরিত্রের আধারে ফুটিয়ে তোলা

ছিল বেশ বড় এক চ্যালেঞ্জ। নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু জানিয়েছেন, একজন মানুষ

প্রকৃত অর্থে ভালো হয়ে শেষ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে কি না—সেই গভীর জীবনবোধের

প্রশ্নই এই নাটকের মূল উপজীব্য। এরশাদ হাসানের অভিনয়ের মাধ্যমে সেই প্রশ্নগুলো

অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

এই প্রযোজনাটিকে শিল্পমণ্ডিত করতে নেপথ্যে কাজ করেছেন একঝাঁক দক্ষ কুশলী। নাটকটির

মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন পলাশ হেনড্রী সেন, সংগীত পরিচালনায় হামিদুর রহমান

পাপ্পু এবং পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি। এছাড়া প্রপস পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি

সুকর্ণো এবং কোরিওগ্রাফিতে রয়েছেন রবিন বসাক। শৈল্পিক কারুকার্যে সমৃদ্ধ এই নাটকটি

ইতোমধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ নাট্যোৎসবে অংশ নেওয়ার

আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

বিবেকানন্দ থিয়েটারের ২৫তম এই প্রযোজনাটি মূলত মানুষের আত্মিক সংকটের এক নিবিড়

চিত্রায়ন। একক অভিনয়ের দাপট আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর সংমিশ্রণে নাটকটি দর্শকদের এক

ভিন্নধর্মী থিয়েটার অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানীর শিল্পকলা

একাডেমিতে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা এই

গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

নির্মাতারা আশা করছেন, পূর্বের প্রদর্শনীর মতো এটিও দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন