, ,

নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে শুক্রবার সশস্ত্র বন্দুকধারীদের

অতর্কিত হামলায় ১৭ জন কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। কৃষি

মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের লক্ষ্য করে এই ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয়

কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘জিহাদি গোষ্ঠী’ এবং ‘ব্যান্ডিট’

হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো মূলত

মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, গবাদিপশু লুট এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী হামলা

চালিয়ে থাকে। এমনকি কৃষকদের নিজেদের জমিতে চাষাবাদের অনুমতি পেতে এই সশস্ত্র

গোষ্ঠীগুলোকে নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করতে হয়।

জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরন নামায়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকরা যখন

জমিতে কাজ করছিলেন, তখন মোটরসাইকেলে আসা একদল বন্দুকধারী নিজেদের দর্শনার্থী হিসেবে

পরিচয় দিয়ে তাদের ওপর গুলি বর্ষণ করে। মারাদুন জেলার রাজনৈতিক প্রশাসক সানুসি

দোসারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘২০২৬ সালের কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত করার

উদ্দেশ্যে পরিচালিত নোংরা হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত ১৭ জনকে ইতিমধ্যে দাফন করা

হয়েছে এবং আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ

আগে স্থানীয়দের প্রতিরোধে ১৩ জন বন্দুকধারী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা

চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত রবিবারও এই এলাকার ৩৯ জন প্রবীণ ব্যক্তিকে অপহরণ করা

হয়েছিল।

নাইজেরিয়ায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতে কৃষকদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলার ফলে দেশজুড়ে বড়

ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)

ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে সৃষ্ট

নিরাপত্তাহীনতা দেশের রাজস্ব ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি

দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। কৃষকরা তাদের জীবন ও জীবিকার

সুরক্ষায় সরকারের কাছে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন