শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩

সিনেমায় আসছে ইতালির ‘২৭ দিনের রানি’ মারিয়া হোসের গল্প

ইতালির ইতিহাসের অন্যতম এক নাটকীয় অধ্যায় এবার রূপালি পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠতে

যাচ্ছে। ১৯৪৬ সালের মে মাসে মাত্র ২৭ দিনের জন্য ইতালির রানি হওয়া মারিয়া হোসের

জীবন ও তাঁর সময়কাল নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশেষ চলচ্চিত্র ‘মেইস্তা’ (Maestà)।

বেলজিয়ামের রাজা প্রথম আলবার্টের কন্যা এবং ইতালির যুবরাজ দ্বিতীয় উমবের্তোর স্ত্রী

মারিয়া হোসের এই অবিশ্বাস্য গল্পটি বড় পর্দায় নিয়ে আসছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা

জিনেভ্রা এলকান। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটির

চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখবেন ইতালির প্রখ্যাত নির্মাতা মার্কো বেলোচিও।

ইতিহাসে মারিয়া হোসে ‘মে কুইন’ (May Queen) বা ‘২৭ দিনের রানি’ হিসেবে বিশেষভাবে

সমাদৃত। ১৯৪৬ সালের ৯ মে থেকে ২ জুন—মাত্র ২৭ দিনের জন্য রানির মর্যাদায় ভূষিত

ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ ভাগে ফ্যাসিবাদ ও রাজতন্ত্রের তীব্র সংকটের

মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উমবের্তোর পরিবার তাঁকে মসনদে বসায় এবং সেই সুবাদে মারিয়া রানির

মুকুট লাভ করেন। তবে রাজমুকুট পরার মাত্র ২৭ দিন পরই ইতালিতে এক ঐতিহাসিক গণভোট

অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে

প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেয়। ফলে রাজপরিবারকে বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়। এই

নাটকীয় প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি তৎকালীন ইতালির ফ্যাসিবাদী সমাজ ও রাজনীতির নানা দিকও

এই সিনেমায় সমান্তরালভাবে উঠে আসবে।

চলচ্চিত্রটির গল্পে মারিয়া হোসের ব্যক্তিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ফুটিয়ে তোলা

হবে। তিনি তৎকালীন রক্ষণশীল রাজপরিবারের সদস্য হলেও ছিলেন অত্যন্ত শিক্ষিত, আধুনিক

ও ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী। তিনি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন

যে, বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতালিতে রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাই তাঁর

সহানুভূতি ও অবস্থান ছিল মূলত সাধারণ অধিকারকামী মানুষের পক্ষে। পরিচালক জিনেভ্রা

এলকান ছবিটির মূল ভাবনা নিয়ে বলেন, “এই সিনেমাটি ১৯৪৬ সালের সেই অত্যন্ত

গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কয়েক সপ্তাহের ঘটনাকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করবে, যখন

মারিয়া হোসে একদিকে রানির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, অন্যদিকে নিজের চোখে রাজতন্ত্রের

একটি সুদীর্ঘ যুগের অবসানও প্রত্যক্ষ করেছিলেন।”

ঐতিহাসিক সত্যতা ও ড্রামাটিক আবহের সংমিশ্রণে নির্মিতব্য এই সিনেমাটির মূল কাজ খুব

শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে এই কালজয়ী চলচ্চিত্রে মারিয়া হোসে, দ্বিতীয় উমবের্তো

বা অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রে কারা অভিনয় করবেন, সে বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে

আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী ইউরোপের রাজনৈতিক

উত্থান-পতন এবং এক রানির সংক্ষিপ্ততম রাজত্বকালের এই মনস্তাত্ত্বিক গল্পটি

আন্তর্জাতিক দর্শকদের ইতিহাস ও চলচ্চিত্র শিল্পের মেলবন্ধনে নতুন এক অনন্য স্বাদ

দেবে বলে মনে করছেন সিনেমা বিশ্লেষকেরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন