২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এল’-এর প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তের এক নাটকীয় গোলে
পানামাকে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে শুভসূচনা করেছে আফ্রিকান পরাশক্তি ঘানা। কানাডার
টরন্টোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম
পয়েন্ট পাওয়ার একেবারেই দ্বারপ্রান্তে ছিল পানামা। তবে ম্যাচজুড়ে চমৎকার খেলেও
শেষরক্ষা হয়নি তাদের; যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৯৫ মিনিট) গোল হজম করে
আক্ষেপ ও হারের ক্ষত নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেন্ট্রাল আমেরিকার এই দলটিকে।
অথচ পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণের দিক থেকে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল পানামার।
প্রায় ৬২ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে তারা ঘানার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মোট ১১টি শট
নিয়েছিল, যার বিপরীতে ঘানার শট ছিল মাত্র ৮টি। প্রথমার্ধের শুরুর দিকেই খেলার
মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বিপজ্জনক সুযোগটি তৈরি করেছিল পানামা। আমির
মুরিলোর নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের মাঝখান থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন
পানামা ফরোয়ার্ড সিসিলিও ওয়াটারম্যান। তবে ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি
ঝাঁপিয়ে পড়ে চমৎকার দক্ষতায় গোল হজম করা থেকে দলকে রক্ষা করেন। কয়েকটি শারীরিক
সংঘর্ষের ধাক্কা সামলানোর পর আতি-জিগি প্রথমার্ধের বিরতিতেই মাঠ ছাড়লে ঘানার
গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ান বদলি গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ম্যাচজুড়ে আসল নায়কের ভূমিকা পালন করেন বদলি গোলকিপার
বেঞ্জামিন আসারে। শেষ ৪৫ মিনিটে গোলপোস্টে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে তিনি পানামার
নিশ্চিত তিনটি শট প্রতিহত করেন, যার মধ্যে দুটি ছিল ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া
জোরালো আক্রমণ। আসারের এই দুর্দান্ত বীরত্বের পর ম্যাচের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে
কাঙ্ক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসে ঘানার জন্য। বদলি খেলোয়াড় ব্রান্ডন থমাস আসান্তে
আলগা বল পেয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা
বানিয়ে চমৎকারভাবে বল গোলমুখে ঠেলে দেন। সেখান থেকে ফরোয়ার্ড কালেব ইয়েরেঙ্কি এক
নিখুঁত টোকায় বল জালে জড়িয়ে টরন্টোর স্টেডিয়ামে ঘানাকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।
এই ম্যাচে ঘানা মাঠে নেমেছিল তাদের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার টমাস পার্টিকে ছাড়াই।
ধর্ষণের অভিযোগে ভিসা-জটিলতায় পড়ে কানাডায় প্রবেশ করতে না পারায় বস্টনে দলের
বেস ক্যাম্পেই অবস্থান করতে হয়েছে সাবেক এই আর্সেনাল তারকাকে। তবে পার্টির
অনুপস্থিতিতেও ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালিস্ট ঘানা শেষ মুহূর্তের জয় নিয়ে
গ্রুপ ‘এল’-এর গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্য দিকে, ভালো
পারফরম্যান্স দেখানোর পরও শেষ মুহূর্তের অসাবধানতায় ১ পয়েন্ট হাতছাড়া হওয়ায়
মাঠ ছাড়ার সময় পানামার খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট ছিল।





