, ,

পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা: সূচকের বড় উত্থানে ফিরছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা

দেশের পুঁজিবাজারে গেল সপ্তাহে এক শক্তিশালী ইতিবাচক ধারার প্রতিফলন দেখা গেছে।

দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ

সূচকের ধারাবাহিক উত্থানে বিশেষ সহায়তা করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাজারের ওপর

বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরতে শুরু করায় বড় ও মাঝারি মূলধনি শেয়ারের প্রতি

নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বস্ত্র, প্রকৌশল এবং নির্দিষ্ট কিছু

উৎপাদনমুখী খাতের সক্রিয় লেনদেন বাজারের সামগ্রিক গতিধারাকে সচল রেখেছে। অধিকাংশ

শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, গত সপ্তাহে বাজারে বিক্রির চাপের

তুলনায় ক্রয়ের চাহিদাই বেশি শক্তিশালী ছিল।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান সূচক

ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে

অবস্থান করছে। একইভাবে নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭০

পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৩৬ পয়েন্টের উন্নতিতে ১

হাজার ১৫০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের

মধ্যে দর বেড়েছে ৩২২টির, বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৪৬টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টি

প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। সূচকের এই বড় উত্থানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে

ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী

ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।

লেনদেনের পরিমাণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার

২৮৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড়

লেনদেনের হার সামান্য দশমিক ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্রে

বস্ত্র খাতের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট লেনদেনের ১২ দশমিক ৮ শতাংশ দখল করে এই

খাতটি শীর্ষে অবস্থান করছে। এছাড়া সাধারণ বীমা খাত ১২ দশমিক ১ শতাংশ এবং ওষুধ ও

রসায়ন খাত ১০ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

ব্যাংক এবং প্রকৌশল খাতও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন সম্পন্ন করে তালিকার শীর্ষ

পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বা রিটার্ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গত সপ্তাহে তথ্যপ্রযুক্তি খাত

সবচেয়ে এগিয়ে ছিল, যেখান থেকে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এরপরের

অবস্থানে ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক

এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সমান্তরাল উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সিএসইর সার্বিক

সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এই

এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ৩৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৪টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং

১১১টি প্রতিষ্ঠান দর হারিয়েছে। সার্বিক এই ইতিবাচক পরিস্থিতি বাজারের দীর্ঘমেয়াদী

স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন