জামালপুরে একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন
চেম্বার থেকে ১৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মাদক বহনে ব্যবহৃত সাদা
রঙের টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর
অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে
জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় একটি নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্টে
অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বড়টোডা বিশনাউড়ি
এলাকার আক্তার হোসেন, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকার মিন
মোক্তার ওরফে মনির হোসেন, বিল্লাল হোসেন এবং প্রাইভেটকারচালক সাগর।
পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জামালপুরে আনা
হচ্ছে—এমন একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় বিশেষ
চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় নির্দিষ্ট কারটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে এর ভেতরে
থাকা আরোহীরা গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত
তৎপরতার সাথে ধাওয়া করে তাঁদের চারজনকেই ধরে ফেলেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সন্দেহভাজন গাড়িটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে
তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে লোহা ও স্টিল দিয়ে
বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান মেলে। সেই চেম্বার খুলে খাকি কাগজে
নিখুঁতভাবে মোড়ানো ছয়টি বড় প্যাকেটে থাকা মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া এই গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে
জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর
সংশ্লিষ্ট ধারায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চালানের মূল
উৎস, সরবরাহকারী চক্র এবং এর পেছনে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের
শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এই অভিযানের বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন,
জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এমন কঠোর অভিযান ও নজরদারি সর্বদা জারি থাকবে এবং
মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।





