ইতালির রাজধানী রোমে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের ওপর নেমে এসেছে নৃশংসতার কালো
ছায়া। অজ্ঞাতপরিচয় এক দুর্বৃত্তের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের তিন সদস্য
নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার
দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিগ্লো এলাকার একটি
আবাসিক ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পরিবারের প্রধান কামাল হোসেনের (৪৫) পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার
আদি নিবাস বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি দীর্ঘকাল ধরে
সপরিবারে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন। হামলায় নিহত অন্য দুজন হলেন কামাল হোসেনের
স্ত্রী এবং তাদের মাত্র ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যা।
এই নৃশংস ঘটনায় কামালের ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি
স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই ঘাতক অস্ত্র নিয়ে কামালের
অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীর
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কামাল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে। এ সময়
বড় ছেলে বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেটি
সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে করতে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে এলে প্রতিবেশীরা দ্রুত পুলিশে
খবর দেন।
খবর পেয়েই ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী ‘কারাবিনিয়েরি’ এবং অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত
ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সেখান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত তরুণকে
হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছেলেটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত
এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এদিকে, এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো পিনেতা সাচেত্তি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘাতককে শনাক্ত করতে ব্যাপক
তল্লাশি শুরু করেছে রোম পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ
সংগ্রহ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি নাকি
ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে ঘটেছে—তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক
বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।
এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির
সদস্যরা। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘাতককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
দাবি তুলেছেন। রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক
এবং লোমহর্ষক একটি অপরাধ। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা
করছি।”
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনই নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য
জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। তবে তদন্তে অগ্রগতি হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী
তথ্য জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।





