বিশ্বকাপ ফুটবলের মূলমঞ্চে লাল-সবুজের জার্সি না থাকলেও, গ্যালারি আর রাজপথের
উন্মাদনায় বাংলাদেশের নাম এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দুই
পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচের পর এদেশের সমর্থকদের বাঁধভাঙা
উল্লাস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনার খোরাক
জোগাচ্ছে। বাংলাদেশের এই ফুটবল সংবেদনশীলতার খবর এবার সরাসরি পৌঁছে গেছে খোদ
ব্রাজিলিয়ান ও আর্জেন্টাইন তারকাদের কানে। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো
মার্তিনেজের পর এবার বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি নিজের গভীর অনুরাগ ও কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের অতন্দ্র প্রহরী আলিসন বেকার।
জাপানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতি
টের পেয়ে আলিসন নিজেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে ওঠেন, ‘নাইচ, বাংলাদেশ!’ তিনি জানান,
বাংলাদেশের মানুষের ফুটবল নিয়ে এই অভাবনীয় উন্মাদনার ভিডিও চিত্রগুলো তাঁর নজর
কেড়েছে। সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আলিসন বেকার বলেন, ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ,
আমাদের সমর্থনের জন্য। আমি বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষদের আমি ধন্যবাদ
দিতে চাই। ব্রাজিলিয়ানরা বাংলাদেশকে ভালোবাসে। ধন্যবাদ এত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য।
ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুক।’
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে যখন জাপানের বিপক্ষে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি জয়সূচক
গোলটি করেন, তখন বাংলাদেশে গভীর রাত। তবে সময়ের ব্যবধান এদেশের ফুটবলপ্রেমীদের
আবেগে কোনো ভাটা ফেলতে পারেনি। ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় খেলা
দেখতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। প্রিয় দলের জয় নিশ্চিত হতেই মধ্যরাতের
নিস্তব্ধতা ভেঙে মিছিল ও উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। এদেশের মানুষের এমন অকৃত্রিম
ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ম্যাচ সেরা হওয়া ব্রাজিলিয়ান
মিডফিল্ডার কাসেমিরোও।
উল্লেখ্য, এবারের আসরে জাপানের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে
কিছুটা অনিশ্চয়তায় ছিল সেলেসাওরা। তবে বিরতির পর কাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং শেষ
মুহূর্তে মার্তিনেল্লির লক্ষ্যভেদে শেষ ষোলো নিশ্চিত হয় পাঁচবারের বিশ্ব
চ্যাম্পিয়নদের। মাঠের এই জয়ের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সমর্থকদের এই
অকুণ্ঠ সমর্থন ব্রাজিলিয়ান শিবিরের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। এর আগে
আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও বাংলাদেশের নাম শুনে একইভাবে তাঁর
ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন। এদেশের ফুটবল উন্মাদনা এখন আর কেবল ভৌগোলিক সীমানায়
সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকাদের হৃদয়েও বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।





