, ,

প্রতিরক্ষা খাতে ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়াল ব্রিটেন

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস প্রতিরক্ষা

খাতে অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড (১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দের ঘোষণা

দিয়েছেন। সামরিক বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

যদিও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছিল এই বরাদ্দের পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন

করার। সেই তুলনায় এই বরাদ্দ অপ্রতুল। ঘোষিত অতিরিক্ত বরাদ্দের ৫ বিলিয়ন পাউন্ড

শুধুমাত্র ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের পেছনে খরচ করা হবে।

ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট

৮০ বিলিয়ন পাউন্ডে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্যান্য বেসামরিক খাত ও সরকারি

পরিচালন ব্যয় থেকে সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয় বা কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই ১৯৮০-এর দশকের পর

থেকে প্রতিরক্ষা খাতে ‘সবচেয়ে বড় ও ধারাবাহিক বৃদ্ধি’ সাধন করছে। এই ব্যয় মেটাতে

বেসামরিক খাতের বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে সরকারি কর্মী নিয়োগসহ পরিচালন ব্যয়ে

কাটছাঁট করতে হবে।

এরপর তিনি ঘোষণা করেন যে, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার অধীনে সরকার প্রতিরক্ষা

খাতে অর্থায়ন আরও ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি করে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করছে।

বিগত সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ৫৪ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করত, যা ২০২৯ সালের মধ্যে

বাড়িয়ে বছরে ‘প্রায় ৮০ বিলিয়ন পাউন্ড’ করা হচ্ছে। এটি প্রকৃত অর্থে ২৭ শতাংশ

বৃদ্ধি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ‘অতল গহ্বর’ হিসেবে দেখা

হতো। তবে এবার সেই ধারণা বদলাতে হবে। তার মতে, শুধু বেশি অর্থ ব্যয় করলেই হবে না,

সেই অর্থ আরও কার্যকর ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করতে হবে।

তিনি বলেন, এ পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রজন্মগত পরিবর্তন

আনা হবে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনাবাহিনীকে আধুনিক

প্রযুক্তির সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। ড্রোন প্রযুক্তিতে ৫ বিলিয়ন

পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করা হবে, যা এ খাতে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়

বিনিয়োগ।

বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য একটি ‘হাইব্রিড নৌবাহিনী’ গড়ে

তুলবে। এতে যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি পানির ওপর ও নিচে চলাচলকারী চালকবিহীন (আনক্রুড)

নৌযানও ব্যবহার করা হবে। ব্রিটিশ ফ্রিগেট যখন রাশিয়ার কোনো হুমকিস্বরূপ জাহাজ

মোকাবিলা করবে, তখন এসব চালকবিহীন নৌযানও অভিযানে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধ সক্ষমতা

গড়ে তোলা হবে। স্বয়ংক্রিয় ‘উইংম্যান’ ড্রোনের সঙ্গে টাইফুন যুদ্ধবিমান পরিচালনা

করা হবে, যা শত্রুর নজর এড়িয়ে অভিযান চালাতে সহায়তা করবে।

এছাড়া সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন, দূরপাল্লার

ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ

বাড়ানোর কথাও জানান স্টারমার। তার দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে সেনাবাহিনীর

আক্রমণক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ বাড়বে।

পোস্টটি শেয়ার করুন