অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আইশা খানের। আগামী
৩১ জুলাই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত
চলচ্চিত্র ‘শেকড়’। নির্মাতা প্রসূন রহমান প্রথমে ঈদুল ফিতরে ছবিটি মুক্তির
পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সে সময় একসঙ্গে একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাওয়ায়
এবং পরবর্তীতে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার কথা মাথায় রেখে মুক্তির সিদ্ধান্ত বদলানো
হয়। বিশ্বকাপ শেষে এবার চূড়ান্তভাবেই বড় পর্দায় আসছে সিনেমাটি।
নিজের সিনেমা মুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বসিত আইশা খান বলেন, ‘শেকড় আমার ক্যারিয়ারের জন্য
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছবিটি মুক্তি
পাচ্ছে। আমার প্রত্যাশা, দর্শকরা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখবেন। আমি বিশ্বাস করি,
ছবিটির গল্প এবং আমাদের অভিনীত চরিত্রগুলো তাঁদের ভীষণ ভালো লাগবে।’
মানুষ ও মাটির মধ্যকার চিরন্তন সম্পর্কের এক আবেগঘন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে
‘শেকড়’। এই সিনেমায় আইশা খানের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন এফ এস নাঈম, প্রবীণ
অভিনেত্রী দিলারা জামানসহ আরও অনেক গুণী শিল্পী। দেশে মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। কানাডার টরন্টোয় অনুষ্ঠিত
‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া’ (ইফসা)-তে ছবিটির জমকালো বিশ্ব
প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আইশা অভিনীত ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রটি বিশেষভাবে প্রবাসী
দর্শক ও চিত্রসমালোচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়।
এদিকে, অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে উপস্থাপক হিসেবেও বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন আইশা।
তবে তাঁর হাতে রয়েছে আরও বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ। খুব শিগগিরই শুরু হতে
যাচ্ছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘সংবাদ’-এর শুটিং। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট পর্দা বা ওটিটি
প্ল্যাটফর্মে তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এর কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, মূলত
গৎবাঁধা বা একই ধাঁচের চরিত্রে অভিনয়ের বদলে ভিন্ন গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রেই
নিজেকে মেলে ধরতে চান তিনি।
কাজের প্রতি নিজের এই সিলেক্টিভ বা খুঁতখুঁতে স্বভাবের কথা জানাতে গিয়ে আইশা বলেন,
‘একই ধাঁচের গল্পে বারবার কাজ করতে আমার একদমই ভালো লাগে না। ওটিটির ক্ষেত্রেও
প্রথম দিকে বেশ কিছু কাজের প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু মনের মতো ভালো গল্প আর পাইনি। এ
কারণেই দর্শকরা হয়তো ইদানীং আমাকে পর্দায় কম দেখছেন। আমি সবসময় ভালো গল্প আর
মানসম্মত চরিত্রের অপেক্ষায় থাকি।’
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আইশা খান বরাবরই বেশ স্পষ্টভাষী। সস্তা গুঞ্জন বা অহেতুক
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে নিজের সুনিপুণ কাজের মাধ্যমেই দর্শকদের হৃদয়ে
স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে বেশি আগ্রহী তিনি। দীর্ঘ প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক
প্রদর্শনী এবং দর্শকদের বিপুল প্রত্যাশার পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে ‘শেকড়’ মুক্তির
মাধ্যমে বড় পর্দায় আইশা খানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।





