বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা
পাঁচজন অফিশিয়ালের সবাই আর্জেন্টিনার নাগরিক। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা
ফিফার এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ফরাসি সমর্থকরা এই প্যানেল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করে
বলছেন, ম্যাচটিতে লিওনেল মেসিকেই প্রধান ‘রেফারি’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।
চলমান আসরে মূল রেফারি ও দুই লাইন্সম্যান একই দেশের হওয়ার ঘটনা বেশ কয়েকবার দেখা
গেলেও, সাধারণত চতুর্থ ও পঞ্চম রেফারি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভার) অন্য
দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। তবে টুর্নামেন্টের ৯৬টি ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ার পর এবারই
প্রথম মাঠ ও মাঠের বাইরের পাঁচজন রেফারিই একই দেশের, তথা আর্জেন্টিনার অন ডিউটি
থাকছেন, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
উল্লেখ্য, বিগত দুটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা একে অপরের
মুখোমুখি হয়েছিল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে বিদায়
করে দিয়েছিল ফ্রান্স। অন্যদিকে, গত আসরের ফাইনালে ফরাসিদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল
আলবিসেলেস্তেরা। দুই দলের এমন চিরবৈরী ফুটবলীয় ইতিহাসের কারণে ফরাসি শিবিরের
আশঙ্কা, আর্জেন্টিনার রেফারিরা তাদের দলের বিপক্ষে কোনো ধরনের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত
নিতে পারেন।
ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচটির মূল রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ফাকুন্দো তেলো। সহকারী
হিসেবে তার সঙ্গে থাকছেন জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চেদ। এছাড়া চতুর্থ
রেফারি এবং রিজার্ভ রেফারি হিসেবে থাকবেন যথাক্রমে দারিও হেরেরা এবং ক্রিশ্চিয়ান
নাভারো।
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত ফাকুন্দো তেলো মাঠে কড়া হাতে
ম্যাচ পরিচালনার জন্য বেশ বিখ্যাত। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো বনাম
পর্তুগাল ম্যাচে মরক্কোর ফুটবলার ওয়ালিদ চেদিরাকে লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি ব্যাপক
সমালোচিত হয়েছিলেন। একই বছর আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে বোকা জুনিয়র্স ও রেসিং
ক্লাবের মধ্যকার একটি ম্যাচে একাই ১০টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড রয়েছে তার। তবে
ফ্রান্সের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তেলোর এবারই প্রথম।
কাকতালীয়ভাবে, এবারের আসরে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের ম্যাচে যিনি প্রধান রেফারি
হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেই ফ্রাঁসোয়া লেতেসিয়ার মূলত ফ্রান্সের নাগরিক।
ওই ম্যাচে তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বা ‘টেনে’ খেলানোর
পাল্টা অভিযোগ উঠেছিল।
তবে সেসব যুক্তিতে কান দিচ্ছেন না ফ্রান্সের গণমাধ্যম ও সমর্থকরা। দেশটির একটি
শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ফিফার কোনো লজ্জা নেই’। পাশাপাশি
এক ফরাসি ফুটবল ভক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ফিফা এক
কাজ করুক, মেসিকেই এই ম্যাচের রেফারি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দিক।’





