, ,

ফেনীতে পাহাড়ী ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বন্যার আশঙ্ক, প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

আষাঢ়ের শেষভাগে এসে আকাশভাঙা বৃষ্টি আর ভারতের ত্রিপুরা হতে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের

প্রভাবে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীতে প্রবল পানির তোড় সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রমাগত বাড়তে থাকা পানির উচ্চতায় নদী তীরবর্তী পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া

উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মুহুরী নদীর পানির

উচ্চতা বর্তমানে বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় রাত পোহালেই লোকালয় প্লাবিত হওয়ার

শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন লাখো মানুষ।

জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪

ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন এই

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে,

পরশুরাম পয়েন্টে মুহুরী নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যদিও তা এখনো বিপদসীমা

অতিক্রম করেনি, তবে ক্রমাগত ঢলের ফলে যেকোনো সময় তা লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি বছরই নদী ভাঙনের ফলে তাদের কৃষিজমি, গবাদিপশু এবং মৎস্য

ঘের হারানোর আশঙ্কায় থাকেন।

সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ফেনী জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ

করেছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্গত

মানুষের জন্য ৮০টি স্থায়ী ও ১৪৪টি অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলায় নৌকার সংখ্যা বাড়িয়ে ৯৩টিতে

উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক

স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম জানিয়েছেন যে, বর্তমানে জরুরি

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার ১৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ছাড়াও

পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল ও ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ

পানির জেরিক্যান, তেরপল, লাইফ জ্যাকেট, রেইনকোট এবং টর্চলাইটের মতো প্রয়োজনীয়

সামগ্রী মজুত করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য ও ঘরবাড়ি মেরামতের

জন্য টিন পাঠানো হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাধারণ মানুষের পাশে

দাঁড়ানো সম্ভব হয়।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক সর্বস্তরের জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

জানিয়েছেন। তিনি জানান যে, সরকারি কর্মকর্তা, মেডিকেল টিম এবং স্বেচ্ছাসেবী

সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা

হচ্ছে। পাউবো-এর পক্ষ থেকে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো চিহ্নিত করে জরুরি মেরামতের

প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের মাঝে মেঘ কেটে শান্ত পরিস্থিতির

অপেক্ষায় রয়েছেন ফেনীর নদীপাড়ের মানুষ।

পোস্টটি শেয়ার করুন