নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বিএনপি। দলটির
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার
১৮২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। সে হিসাবে দলীয় তহবিলে
উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা। রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে
গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাবটি জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের
প্রতিনিধিদলটি ইসি সচিবালয়ে যায়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন দলের কোষাধ্যক্ষ
ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং
সহদপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক
আর্থিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
হিসাব জমা দেওয়ার পর রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে
পারবেন, সেটি নির্বাচন কমিশন ও আদালতের বিষয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো
প্রার্থীর প্রতি বিএনপির সমর্থন থাকবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও
দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা
নিশ্চিত করতে ৩১ জুলাইয়ের আগেই এ হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণত সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীর অনুদান এবং দলীয়
মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে রাজনৈতিক দলগুলো আয় দেখায়। অন্যদিকে, সারা বছরের সাংগঠনিক
কার্যক্রম পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশ,
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয় রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং অসচ্ছল
নেতা-কর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয় দেখানো হয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে
প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন
নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। কোনো দল টানা তিন বছর এ হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে
তাদের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।





