, ,

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা

ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে টানা একাদশ রজনীর মতো আক্রমণ চালিয়েছে মার্কিন

সামরিক বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই হামলার মাত্রা আরও

তীব্রতর হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে এএফপি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক নৌযান

চলাচলের ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই ইরানের ওপর এই আঘাত

হানা হচ্ছে। তারা আরও নিশ্চিত করেছে যে, গত মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ২৩০০ টা থেকে

ইরানের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নতুন করে এই অভিযান শুরু হয়।

সেন্টকমের পরবর্তী এক বার্তা অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ০০১৫ টা পর্যন্ত এই

আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের সামরিক অপারেশন সেন্টার, নৌ-যুদ্ধ

সক্ষমতা, যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং সামরিক সরঞ্জাম

সরবরাহের অবকাঠামোতে বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী,

বিগত তিন মাসে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের

ওপর আক্রমণ পরিচালনা করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে সেন্টকম

বলেছে, ‘উসকানিবিহীন এসব হামলায় শত শত নিরীহ নাবিকের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে

এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধে চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

সেন্টকমের সরবরাহকৃত তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে তারা গুরুত্বপূর্ণ এই

নৌপথে প্রায় ৯০০টি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন

সামরিক পাহারার মাধ্যমে এই সময়ে বিশ্ববাজারে প্রায় ৪৫ কোটি বা ৪৫০ মিলিয়ন ব্যারেল

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল

পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক হামলা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে

পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপের ফলে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত

হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন