লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) চলতি আসরে জাফনা কিংসের হয়ে খেলার কথা থাকলেও শেষ
পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার তাসকিন
আহমেদ। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে অংশ নেওয়ার কথা থাকায় জিম্বাবুয়ে সফর শেষে তাঁর
সরাসরি শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লঙ্কান এই মেগা আসর থেকে নিজের নাম
প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তিনি জিম্বাবুয়ে থেকে দলের সঙ্গে সরাসরি বাংলাদেশেই ফিরে
আসছেন। আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের জন্য নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে
পুরোপুরি প্রস্তুত রাখতেই অভিজ্ঞ এই ফাস্ট বোলার এমন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ
করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে এলপিএলে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ
থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি নিয়েছিলেন
তাসকিন। তবে সিরিজের ঠিক আগমুহূর্তে দলের অন্যতম প্রধান পেসার মুস্তাফিজুর রহমান
হঠাৎ চোটে পড়ায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। দলের বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী রাখতে
এবং পেস ইউনিটের ঘাটতি পূরণে বিসিবি তাসকিনকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দলের সঙ্গে
রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় পরিকল্পনা ছিল যে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে
টি-টোয়েন্টি সিরিজের পাট চুকিয়েই তিনি শ্রীলঙ্কায় উড়ে যাবেন এবং এলপিএলের
ম্যাচগুলোতে জাফনা কিংসের হয়ে মাঠে নামবেন।
তবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া
সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। সুদীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি
বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ হতে যাওয়ায় এই সফরটি টাইগারদের জন্য অত্যন্ত
মর্যাদাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। মূলত অজিদের বিপক্ষে এই কঠিন সিরিজের কথা মাথায় রেখেই
তাসকিন শেষ মুহূর্তে লঙ্কা লিগ থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন।
লাল বলের ক্রিকেটের জন্য নিজের ফিটনেস শতভাগ নিশ্চিত করা এবং কাজের চাপ কমানোর
লক্ষ্যেই তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মোহ ত্যাগ করেছেন। দেশে ফিরে কিছুদিন সম্পূর্ণ
বিশ্রামে কাটানোর পর তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের নিবিড় প্রস্তুতিতে
যুক্ত হবেন।
আসন্ন এই বহুপ্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)
আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকাশিত
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম
টেস্টের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় এই সিরিজটির পর্দা উঠবে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর
দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে মাঠে
নামার এই সুযোগটি তাসকিন আহমেদসহ পুরো দলের জন্যই নিজেদের প্রমাণ করার এক বিশাল
মঞ্চ হতে যাচ্ছে।





