বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন আজ জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে বুধবার নতুন স্মার্ট ডিজিটাল সাবমিশন প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়েছে। এই আধুনিক সিস্টেমের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট ও রিপোর্ট দ্রুত, নিরাপদ এবং সঠিক সময়ে জমা দেওয়া সম্ভব হবে। এটি বাজারে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দ্রুততার পাশাপাশি উচ্চতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
বিশেষ সাধারণ অনুষ্ঠানে রাজধানীর নিকুঞ্জের ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে ডিএসইর ‘রেগুলেটরি সাবমিশন মডিউল ও সিএসই অনবোর্ডিং’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
সাইফুদ্দিন বলেন, এই উদ্যোগটি চাইনিজ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে বিপিএম ভিত্তিক কার্যপ্রবাহের অটোমেশন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএসইয়ের দুইজন কর্মী শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা দেশে এনে ইন-হাউস টিমের মাধ্যমে স্থানীয় সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করেন। এর ফলশ্রুতিতে ডিএসই এখন নিজস্ব সক্ষমতায় প্রযুক্তিইতৃপ্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি কার্যকর ডিজিটাল সাবমিশন ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা বাজারের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা আরও বাড়াবে। প্রকল্পে সহযোগিতা করেছে সিডিবিএল, বিএসইসি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো।
অতএব, ভবিষ্যতে আর্থিক তথ্য জমা দেওয়া শুধু পিডিএফে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ডিএসই অগ্রসর হবে এআই-পাঠযোগ্য ও মেশিন-রিডেবল ডেটা ফরম্যাট, যেমন এক্সবিআরএল ভিত্তিক সাবমিশনের দিকে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পাঠযোগ্য আর্থিক তথ্যের অবকাঠামো তৈরি করবে, যা স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণ, গবেষণা ও ডেটা-ইন্টেলিজেন্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে তথ্য-স্বচ্ছতা, মানসম্মত হিসাব ও প্রযুক্তিনির্ভর বাজার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা আধুনিক পুঁজিবাজার গঠনের নতুন দিগন্ত খুলবে।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম তাঁর বক্তৃতায় বলেন, আজকের দিন পুঁজিবাজারের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। ডিএসই এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ আরও শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক অর্জন করেছে। গতকাল পর্যন্ত, নথি জমা ও রিপোর্টিংয়ের বেশিরভাগ কাজ ম্যানুয়াল ও হার্ড কপি ভিত্তিক ছিল, যা বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে ধীর ও জটিল করে তুলত। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে অনলাইন রিপোর্টিং চালু করেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষালাভ করে ডিএসই এখন স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম চালু করেছে, যেখানে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, রেগুলেটরি রিপোর্ট, আর্থিক বিবরণী ও অন্যান্য দরকারি নথি সম্পূর্ণ ডিজিটালি জমা দেওয়া যাবে। হার্ড কপি সাবমিশন প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ বাতিল হয়েছে। এই পরিবর্তন সময়, ব্যয় ও নথি জট কমিয়ে দেবে এবং তথ্যের নিরাপদ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে।





