বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যেখানে তিনি গত ছয় দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বয়সজনিত নানা রোগে ভুগছেন তিনি, যেমন আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন, এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে মেডিকেল বোর্ডের নির্দেশনায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা চলছে। মিলাদ-মাহফিল, মসজিদে ও মাদ্রাসায় আরোগ্য কামনায় আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার তাঁর জন্য দোয়া চেয়ে উপদেষ্টা পরিষদে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশের জনগণের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
গত শুক্রবার নয়াপল্টনে দোয়া মাহফিলের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, তখন থেকে তাঁর সুস্থতা কামনায় আলোচনা ও দোয়া চলছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, দলীয় নেতারা সহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা হাসপাতালে যান, সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মধ্যে অনেকেই তাঁর স্বস্থ্যপ্রার্থনা করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের অন্য নেতা ও তার পরিবারের সদস্যরা अस्पताल থেকে বেরিয়ে দোয়া ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন।
সামাজিক মাধ্যমেও বিভিন্ন layer-এর নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক দূতাবাসের প্রতিনিধিরা খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যার জন্য দোয়া ও শুভকামনা প্রকাশ করছেন। জোনায়েদ সাকী, মুশফিকুল ফজল আনসারী, হাসনাত আবদুল্লাহ সহ অনেকে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন।
তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে তাঁর মায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি জানান, যা কিছুই হোক না কেন, তার মায়ের সুস্থতা তাদের পরিবারের জন্য দুটি সুসংবাদ।
অন্যদিকে, নানা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সমাজের বিশিষ্টজনরা পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে তার সুস্থতা কামনা করছেন। গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকী, এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ, দেশবিদেশের বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পোস্টে দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ ডা. জাহেদ উর রহমান, এনসিপির তাসনীম জারা এবং জামায়াত নেতারা তাঁকে সুস্থতা কামনা করে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন মসজিদে এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন চলমান।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে তিনি তার চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা জটিলতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে থাকাকালে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এরপর দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান। বেশ কিছু দিন লন্ডনে থাকাকালীন প্রফেসর প্যাট্রিক কেনেডি ও অন্যান্য চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সম্প্রতি দেশে ফেরার পর তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।





