বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ই মাঘ, ১৪৩২

১৮৩ দিন পর বাড়ি ফিরল আহত শিক্ষার্থী আবিদ

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত ছাত্র আবিদুর রহিম (১২) পুরো ১৮৩ দিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল। সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বুধবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন।

ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, এই ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনায় আবিদের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। দুর্ঘটনার দিনই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছিল। জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে থাকা আবিদ ও তার পরিবারের কঠোর চিকিৎসা ও অধ্যাবসায়ের কারণে আজ সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হলো। তিনি বলেন, ‘আবিদের মোট ৩৫ বার ছোট-বড় অপারেশন হয়েছে। তার শরীরের ক্ষতস্থানে ১০ বার চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং দুই হাতের অকার্যকর টিস্যু ২৩ বার অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত থাকায় ক্ষতস্থান শুকাচ্ছিল না। তার মুখমণ্ডল দগ্ধ হওয়ায় ৪৮ বার অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয় এবং ২৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।’

অধিকর্তা আরও বলছেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে এখন আবিদ বাসায় ফেরার জন্য প্রস্তুত। তার বাবা-মা কঠোর ধৈর্য্য ধরে এই পরিস্থিতির পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভবিষ্যতে তার ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হবে, যা হাসপাতাল বা বাড়িতে কোনওভাবেই দেওয়া সম্ভব।’

অপরদিকে, ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, যদিও আবিদের শরীরের দগ্ধ অংশ তুলনামূলক কম ছিল, তবে তাদের কাছে এটি ছিল এক ধরনের আরও চ্যালেঞ্জ। তার সেফটিসেমিয়া হওয়ায় পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৬ মাস সময় লেগেছে। এখন এই প্রথম কোনো রোগী হিসেবে আবিদ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, যা চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে গর্বিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বমানের চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় আমাদের দেশে ব্যবহৃত হয়েছে এমন কিছু উন্নত ওষুধ ও ড্রেসিং উপকরণ, যা আগে কখনো বার্ন ইনস্টিটিউটে ব্যবহার হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে সব রোগীর জন্য আরও মানসম্পন্ন চিকিৎসা ও উপকরণ নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এ সময় আবিদুর রহিমের অনুভূতি জানতে চাইলে, তাকে মাইক্রোফোন দিলে সে একান্তভাবেই বললো, ‘আমি যখন হাসপাতালে এসেছি, কোনো ভয় পাইনি।’ এরপর সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বলতে পারেনি বা জিজ্ঞাসা করলে বলতে চায়নি, তবে ধিরে ধিরে বলতে সক্ষম হলো, ‘আমি যুদ্ধ জয় করেছি’.

আর তার বাবা আবুল কালাম আজাদ চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে তার ছেলে ও এই ঘটনায় আহত সবাইকে প্রার্থনা করতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল, তা কম মনে হয়েছে। অনেক বেশি সাহায্য ও সমর্থন প্রয়োজন, এটি নিয়ে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান অকাল যথাযথ ভাবে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং এ ঘটনায় স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনা দেশের শিক্ষার্থী ও সামরিক বাহিনীর জন্য এক স্মরণীয় ও দুঃখজনক ঘটনা।

পোস্টটি শেয়ার করুন