ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে
এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনার গতিপ্রকৃতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব
পোষণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান যে, ওমান
কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় এই বৈঠকগুলো পরোক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয়
টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশে আমাদের যুক্তিগুলো উপস্থাপন করা
হয়েছে এবং অপর পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিও আমাদের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন,
‘এটি একটি ভালো সূচনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যদি আমরা এই
ইতিবাচক পথে এগোতে পারি, তাহলে আমি বলতে পারি যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক
আলোচনার বিষয়ে একটি ইতিবাচক কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব।’
এই বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি পরস্পরের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম
হয়েছে, যাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আরাঘচি। তিনি জানান, ইরানের
উদ্বেগ, স্বার্থ এবং জনগণের অধিকারের বিষয়গুলো বৈঠকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং
অপর পক্ষের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হয়েছে। গত জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের
চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান
হামলার পর এটিই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।
প্রাথমিকভাবে মিশর, তুরস্ক ও কাতারের উদ্যোগে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই বৈঠকের আয়োজন
করার পরিকল্পনা থাকলেও ইরানের বিশেষ অনুরোধে শেষ পর্যন্ত ওমানকে ভেন্যু হিসেবে
চূড়ান্ত করা হয়। এর আগেও গত বছর ওমানে এই ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান
পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর
লক্ষ্যেই এই কূটনীতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে
বিদ্যমান দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে এই বৈঠকটি একটি ইতিবাচক সূচনা হতে পারে বলে
ধারণা করা হচ্ছে।





