রবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬, ১লা চৈত্র, ১৪৩২

কিংবদন্তি অ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমো আর নেই, শোকাহত ক্রীড়াঙ্গন

দেশের ক্রীড়াঙ্গন হারালো এক কিংবদন্তি এবং নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবককে। অ্যাথলেট, কোচ,

বিচারক ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে যার বিচরণ ছিল সবখানে, সেই শামীমা সাত্তার মিমো আর নেই।

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস

ত্যাগ করেন। মিমোর এই আকস্মিক বিদায়ে অ্যাথলেটিকস, আরচ্যারি ও বিকেএসপিসহ দেশের

পুরো ক্রীড়া মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে বিকেএসপির উপ-পরিচালক

(প্রশিক্ষণ) হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালন করায় তিনি অগণিত নবীন ও কৃতি ক্রীড়াবিদের

কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম ছিলেন।

বর্ণাঢ্য অ্যাথলেটিকস ক্যারিয়ারে মিমো ছিলেন সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের নারী হাইজাম্প ইভেন্টে টানা দাপট বজায় রেখেছিলেন

তিনি। হাইজাম্পের পাশাপাশি স্প্রিন্টেও জাতীয় পর্যায়ে জিতেছিলেন অসংখ্য পদক।

ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে সরকার তাঁকে

সম্মানজনক ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’-এ ভূষিত করে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাবেক

প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার খালাতো বোন হলেও, পেশাগত জীবনে কখনোই পারিবারিক বা

রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটাননি বরং মেধা আর শ্রম দিয়েই নিজের পরিচিতি গড়ে

তুলেছিলেন।

কর্মজীবনে মিমো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর দীর্ঘ সময়

বিকেএসপিতে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বিশেষ করে দিনাজপুরের বিকেএসপি অঞ্চলটি তাঁর

প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। অবসর গ্রহণের পরও তিনি ক্রীড়াঙ্গন

থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি অ্যাথলেটিকস ও আরচ্যারি

ফেডারেশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অবদান রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট সকল

ফেডারেশন ও শীর্ষ কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে মিমো ভার্টিগো ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক সমস্যার কারণে

কয়েক মাস ধরে হাঁটাচলা ও পরিচিতদের চিনতে তাঁর কিছুটা সমস্যা হতো। তবে চিকিৎসায়

ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে সম্প্রতি তিনি সুস্থ হয়ে পুনরায় ক্রীড়া প্রাঙ্গণে সক্রিয়

হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু হৃদযন্ত্রের হঠাৎ ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সেই স্বপ্ন এখন না

ফেরার দেশে। মরহুমার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর মরদেহ ঢাকা থেকে নিজ জেলা দিনাজপুরে

নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে পৈত্রিক ভিটায় বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন

তিনি। মিমোর চলে যাওয়ায় দেশের অ্যাথলেটিকস এক যোগ্য কারিগরকে হারালো।

পোস্টটি শেয়ার করুন