বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি সিরিজ ‘হ্যারি পটার’-এর নতুন সংস্করণে
কিংবদন্তি চরিত্র ‘সেভেরাস স্নেপ’-এর ভূমিকায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে এক ভয়াবহ
অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ব্রিটিশ-ঘানায়ান অভিনেতা পাপা এসিয়েদু। কাল্পনিক এই
চরিত্রে একজন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতাকে মেনে নিতে না পেরে উগ্র ভক্তদের একটি বড় অংশ তাঁর
ওপর প্রবল বর্ণবাদী আক্রমণ চালাচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই বেড়েছে যে, সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে এই অভিনেতাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই
নজিরবিহীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং পাপা এসিয়েদুসহ সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জীবন
রক্ষায় ইতিমধ্যে বিশেষ শক্তিশালী নিরাপত্তা দল মোতায়েন করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান
এইচবিও কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপা এসিয়েদু তাঁর ওপর চলা এই মানসিক ও শারীরিক
হেনস্তার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্নেপ চরিত্রে তাঁর অন্তর্ভুক্তির খবর
প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে অসংখ্য ঘৃণ্য মন্তব্য
করা হচ্ছে। বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণের পাশাপাশি অনেকে সরাসরি তাঁকে কাজ ছেড়ে দেওয়ার
আলটিমেটাম দিচ্ছে। এমনকি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে যে, অভিনয় না ছাড়লে তাঁকে
হত্যা করা হবে। ভয়ংকর বিষয় হলো, শুধুমাত্র ভার্চুয়ালি নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত
বাসভবনে গিয়েও হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এমন
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে একদল মানুষের এমন জঘন্য ও উগ্র আচরণ সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যেতে
নারাজ পাপা এসিয়েদু। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, এই চ্যালেঞ্জটি তিনি
কেবল তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, ছোটবেলায় যখন হ্যারি পটারের জাদুকরী দুনিয়া দেখতেন, তখন সেখানে নিজের
মতো কোনো প্রতিনিধি বা কৃষ্ণাঙ্গ চরিত্র দেখতে না পেয়ে এক ধরণের হীনম্মন্যতায়
ভুগতেন। বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের জন্য সেই বৈষম্য দূর করতে এবং একটি নতুন উদাহরণ
তৈরি করতেই তিনি এই বর্ণবাদী আক্রমণের মুখেও দমে না গিয়ে স্নেপ চরিত্রে অভিনয়ের
সিদ্ধান্ত অটল রেখেছেন।
এদিকে এইচবিও-র প্রধান কেসি ব্লয়েস এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি
জানান, হ্যারি পটারের মতো বিশাল এবং আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির
ক্ষেত্রে কাস্টিং নিয়ে এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে তাঁরা আগে থেকেই
কিছুটা আন্দাজ করেছিলেন। এই কারণে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সুরক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা
ব্যবস্থার পাশাপাশি তাঁদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সামাজিক মাধ্যম
ব্যবহারের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এইচবিও কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে
জানিয়েছে যে, তাঁরা কোনো ধরণের ঘৃণা বা বর্ণবাদকে প্রশ্রয় দেবেন না এবং তাঁদের
শিল্পীদের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়াবেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি এইচবিও ম্যাক্স ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স
স্টোন’ সিরিজের প্রথম ট্রেলার প্রকাশ করেছে, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক অনন্য
রেকর্ড গড়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ট্রেলারটির ভিউ ২৭ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি
এইচবিও-র ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ট্রেলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। তবে ভিউয়ের সংখ্যা
আকাশচুম্বী হলেও ভক্তদের মধ্যে তীব্র বিভক্তি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে প্রয়াত
কিংবদন্তি অভিনেতা অ্যালান রিকম্যানের কালজয়ী অভিনয়ের জায়গায় পাপা এসিয়েদুকে মেনে
নেওয়া নিয়ে ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় বইছে। সৃজনশীলতার এই নতুন যাত্রায়
বর্ণবাদের যে বিষবাষ্প ছড়িয়েছে, তা বর্তমান সময়ে শিল্পকলার স্বাধীনতার প্রশ্নে এক
নতুন সংকট তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে পাপা এসিয়েদুর এই অগ্নিপরীক্ষা জাদুর জগতের নতুন
অধ্যায়ে এক অম্লমধুর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।





