পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে
হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। চলমান যুদ্ধ ও চরম উত্তেজনার আবহের মধ্যেও
বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকেই আল-আকসা চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ফিলিস্তিনি মুসলিমরা।
গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাত ও বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের
পরিস্থিতির মধ্যেও ধর্মীয় এই উৎসবের জামাতে তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জানিয়েছে, ঈদুল আজহার চার দিনের ছুটির প্রথম দিনেই
আল-আকসা মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণ ও এর চারপাশের চত্বর মুসল্লিদের উপস্থিতিতে
পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই উৎসব মূলত মহান আল্লাহর নির্দেশে
হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের প্রস্তুতির স্মরণে পালিত হয়। এই দিনে মুসলমানরা
পশু কোরবানির মাধ্যমে ধর্মীয় আচার পালন করেন এবং কোরবানির মাংস সমাজের দরিদ্র ও
অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন।
তবে আধ্যাত্মিক এই উদযাপনের সমান্তরালে ফিলিস্তিনে মানবিক বিপর্যয় ও সংঘাতের
চিত্রটি এখনো অত্যন্ত প্রকট। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসব এমন এক
সময়ে পালিত হচ্ছে যখন গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার
লঙ্ঘিত হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত এই যুদ্ধবিরতি
ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৮০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ২
হাজার ৬৪৫ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব
অত্যন্ত ভয়াবহ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে
ফিলিস্তিনে ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশই নারী ও শিশু।
এছাড়া আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি। যুদ্ধের তীব্রতায় গাজার প্রায়
৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে অবরুদ্ধ এই জনপদের
মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।
ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ আর প্রিয়জন হারানোর শোক বুকে নিয়েই ফিলিস্তিনিরা আল-আকসা মসজিদে
ঈদের নামাজে শরিক হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের মাঝে এই জমায়েত একদিকে যেমন তাদের ধর্মীয়
বিশ্বাসের প্রতিফলন, অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট থেকে মুক্তির আকুতি।
আন্তর্জাতিক মহলে বারবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ও শান্তি স্থাপনের আহ্বান জানানো
হলেও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এখনো সংঘাতের অবসান ঘটেনি, যা এবারের পবিত্র ঈদকেও সাধারণ
মানুষের কাছে বিষাদময় করে তুলেছে।





