শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬, ২১শে চৈত্র, ১৪৩২

বিশ্ববাজারে খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও সার সরবরাহের সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষের প্রভাব সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক খাদ্য বাজারে। এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে, যার ফলস্বরূপ পণ্য পরিবহন খরচ বা ফ্রেট কস্ট অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে মার্চ মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটানোর ওপর। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক মার্চ মাসে ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এই প্রবণতা গত কিছু মাসের নিম্নমুখী ধারা থেকে পুরোপুরি পরিবর্তন এনেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মধ্যে ভোজ্য তেলের দাম এক মাসে ৫ শতাংশ বেড়েছে। চিনির বাজারে আরও বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে মাত্র এক মাসে দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি গমের দামও বেড়ে হয়েছে ৪.৩ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে কৃষি উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বাড়ছে।

খাদ্য সংকটের পিছনে যুদ্ধের পাশাপাশি সারের সরবরাহের বিঘ্ন পতনও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বৈশ্বিক কৃষি ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবহণ করা হয় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তবে, চলমান যুদ্ধের কারণে এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে সারের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং সরবরাহের সম্পূর্ণ চেইন ভেঙে পড়ছে। যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে জাতির আশঙ্কা, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

গমের বাজারেও অস্থিতির মূল কারণ হল যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদী খরা এবং সারের অস্বাভাবিক দামের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় গমের চাষ কমে গেছে, ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যদিও ইউরোপে গমের ফলন তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে এবং প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে, তবুও যুদ্ধের প্রভাবের কারণে বাজারের সামঞ্জস্য ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল একটি আঞ্চলিক সামরিক সংকট নয়, বরং এটি এখন বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন