শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬, ২১শে চৈত্র, ১৪৩২

নওগাঁর পোরশায় ডাকাতি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ডাকাত গ্রেফতার

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ভয়ঙ্কর ডাকাতির ঘটনার তদন্তে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে স্পষ্ট হল। সংঘটিত এই ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে আহত ও ভয় পাওয়া সাধারণ মানুষ। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় ডাকাতরা ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা হলেন: নওগাঁ সদর থানার দোগাছী গ্রামের গোলাম মোস্তফা শ্যামল (৫৫), মহাদেবপুর থানার শিবরামপুরের মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬), সাপাহার থানার খোট্টাপাড়া গ্রামের আবু তাহের (৫৬) এবং তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩)।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ৩১ মার্চ রাতে পোরশা থানার সরাইগাছী-খাট্টাপাড়া সড়কের ফকিরের মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর ডাকাতরা রশি টানিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এই সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন যুবক ডাকাতদের কবলে পড়ে। পরে আরও তিনজনসহ মোট ছয়জনের ওপর অভিযানে যায় চক্রটি। তাদের নিয়ে যায় একটি আমবাগানে, যেখানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়।

ডাকাতরা ওই ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন, এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনাটি জানানোর পর পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শুরু করে। মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ মূল মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং প্রযুক্তির সাহায্যে কার্যকরী অনুসন্ধানে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে। এর পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল ও ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তিনি জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে ও অন্যান্য সক্রিয় সদস্যদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জনসমাগমের মধ্যে সড়ক পথে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রার জন্য জেলা পুলিশ সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

পোস্টটি শেয়ার করুন