মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে রহস্যময় ভাইরাস, মৃত্যু তিন

আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী হঠাৎ পরিণত হয়েছে আতঙ্কের কেন্দ্রে।

অজানা উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়া যাত্রীদের মধ্যে পরে শনাক্ত হয়েছে বিরল ও প্রাণঘাতী

হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রহস্যজনক হান্টাভাইরাসের

প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি সতর্কতা জারি করেছে, আর সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু

হয়েছে ব্যাপক তদন্ত ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দেগামী এমভি হোনডিয়াস জাহাজে

একজনের শরীরে ভাইরাসটি নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে এবং আরও অন্তত পাঁচ যাত্রী আক্রান্ত

হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ডব্লিউএইচও জানায়, আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজন বর্তমানে

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র

দপ্তর বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের

সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।

হান্টাভাইরাস ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়া একটি বিরল

রোগ।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরীতে সম্ভাব্য এই ভাইরাসের

প্রাদুর্ভাব নিয়ে তদন্ত করছে। প্রমোদতরীটি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে কেপ ভার্দের

উদ্দেশে যাচ্ছিল।

সংস্থাটি জানায়, বিস্তারিত তদন্ত চলছে, যার মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও মহামারি

বিদ্যাগত বিশ্লেষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাত্রী ও ক্রুদের চিকিৎসা ও সহায়তা দেয়া

হচ্ছে এবং ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণও চলমান রয়েছে।

ডব্লিউএইচও আরও জানায়, আরও দুই যাত্রীর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং তাদের নিরাপদে

সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

মূলত হান্টাভাইরাস একটি বিরল রোগ। এটি সংক্রমিত ইঁদুরের মল বা মূত্রের মাধ্যমে

মানুষের শরীরে ছড়ায়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে এবং রক্তক্ষরণজনিত

জ্বরের কারণ হতে পারে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রমোদতরীটিতে ‘তীব্র

শ্বাসযন্ত্রজনিত অসুস্থতার’ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন মারা গেছেন এবং

আরেকজন জোহানেসবার্গে নিবিড় পরিচর্যায় আছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফস্টার মোহালে নিশ্চিত করেন, জোহানেসবার্গে

চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রথমে ৭০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি

অসুস্থ হন। তিনি প্রমোদতরীতেই মারা যান। তার লাশ বর্তমানে দক্ষিণ আটলান্টিকের

ব্রিটিশ ভূখণ্ড সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র।

পরে তার ৬৯ বছর বয়সি স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হয়।

পরে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মোহালে এএফপিকে জানান, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক

তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা ৬৯ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি একজন

ব্রিটিশ নাগরিক বলে এএফপি জানিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন